ঢাকা ১০:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সামুদ্রিক নীতির কার্যকর বাস্তবায়নে সরকারের গুরুত্বারোপ: প্রধানমন্ত্রী দেশজুড়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জোরদার পরিচ্ছন্নতা অভিযান নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নাশকতা: ৩০ সেকেন্ডের গেরিলা কৌশলে আতঙ্ক সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে দ্বিতীয় সারির দল পাঠাবে ভারত পরিচালনায় নতুন গল্প নিয়ে ফিরছেন মোস্তাফিজুর নূর ইমরান মিরপুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে তাণ্ডব: দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি নাহিদের পাইকগাছা উপজেলা ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম গঠন বামনডাঙ্গায় জমকালো আয়োজনে রোমা গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ এর শুভ উদ্বোধন ডোমারের মির্জাগঞ্জ স্টেশনে ট্রেনের যাত্রা বিরতির দাবিতে রেলপথ অবরোধ, ৫ ঘণ্টা পর চলাচল স্বাভাবিক  রাণীশংকৈলে পুলিশের জালে মাদক কারবারি ইয়াবাসহ আটক

করলা বা উচ্ছে চাষ পদ্ধতি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:১৫:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২০ ১৮৭৪ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

উচ্ছে বা করলা একটি উৎকৃষ্ট সবজি। ভেজষগুণযুক্ত সবজীগুলোর মধ্যে অন্যতম।

জাত: স্থানীয় জাতের করলা ছাড়া উফসী জাতের বারী-২ ও বারী-৩ বেশ ভালো। হাইব্রিড জাতের করলা চাষ করলে ফলন অনেক বেশী পাওয়া যায়। সুপ্রিম সীড, লালতীর, এসিআই,ইয়ং এর হাইব্রিড বীজ গুলো বেশ ভালো।

জমিঃ বাংলাদেশের সব এলাকা করলা চাষের উপযোগী।দোঁআশ পলি দো-আশ মাটি করলা চাষের জন্য বেশী উপযোগী।করলা চাষের জন্য মাটির কাঙ্কিত মান  পি এইচ ৫.৫ থেকে ৬.৭ এবং তাপমাত্রা ২৫0  সেঃ থেকে ৩০0 সেঃ।

জেনে নিন >> পটল চাষ:এক বার রোপণ করলে টানা চার বছর বিক্রি

বীজ বপনের সময়ঃ পৌষ ও মাঘ মাস ব্যাতিত সারা বছর করলা চাষ করা যায়।তবে ফাল্গুন-চৈত্র ছোট জাতের ও ভাদ্র-আশ্বিন বড় ও মাঝারী জাতের করলার বীজ বপনের উপযুক্ত সময়।

বীজের পরিমানঃ প্রতি শতাংশে ১০-১৫ গ্রাম এবং প্রতি একরে ১.২৫ কেজি থেকে ১.৫০ কেজি। তবে চারা শেডে(পলি ব্যাগে) তৈরী করলে বীজের পরিমান অনেক কম লাগে।

 


 

বীজ বপন পদ্ধতিঃ করলার বীজ সরাসরি বেডে বপন করা যায়। তবে শেডে চারা তৈরী করলে উৎপাদন খরচ কম হয়। বীজ বপনের পূর্বে বীজ রোদে  ১-২ ঘন্টা  রেখে ঠান্ডা করার পর ১২-১৫ ঘন্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। এতে অঙ্কুরোদগম দ্রুততর হয়।সারি থেকে সারি ৫ ফুট এবং চারা থেকে চারার দুরত্ব ৩ ফুট। নিদৃষ্ট দুরত্বে ২টি বীজ বপন করতে হবে।চারা একটু বড় হলে সুস্থ একটি চারা রেখে অন্যটি তুলে ফেলতে হবে। প্যাকেট এর চারা হলে চারা ২-৩ ইঞ্চি লম্বা (চারার বয়স ১৫-২০ দিন) হলে নিদৃষ্ট দুরত্বে একটি সবল চারা রোপন করতে হবে।

জেনে নিন>> লাভজনক পদ্ধতিতে ঝিঙ্গা চাষ পদ্ধতি

তৈরী ও সার প্রয়োগঃভালো ভাবে জমি চাষ করে রোদে শুকানোর সোর প্রয়োগ করতে হবে।

(প্রতি শতাংশে সার প্রয়োগ)

সার জমি তৈরীর সময় শেষ চাষের সময় প্রথম উপরী প্রয়োগ ২য় উপরী প্রয়োগ ৩য় উপরী প্রয়োগ
গোবর ৫০ কেজি – – – –
ইউরিয়া – ২০০ গ্রাম ২০০ গ্রাম ২০০ গ্রাম ২০০ গ্রাম
টিএসপি – ৮০০ গ্রাম – – –
এমওপি – ২০০ গ্রাম ২০০ গ্রাম ২০০ গ্রাম ২০০ গ্রাম
জিপসাম ৪০০ গ্রাম – – – –
জিংক – ৫০ গ্রাম – – –
বোরণ – ৫০ গ্রাম – – –

গাছের আকার ভালো না হলে ২য় ও ৩য় উপরী সার প্রয়োগের সময় প্রতি শতাংশে ২০০ গ্রাম ডিএপি প্রয়োগ করতে হবে।

সংগ্রহ ও ফলনঃ বীজ বপনের ৬০-৭০ দিন পর ফসল সংগ্রহ শুরু হয়।প্রতি একরে প্রায় ১১-১২ টন করলা পাওয়া যায়।

 


পোকামাকড় ও বলাই দমনঃ করলার চারা গজানোর পর থেকে নিয়মিত ম্যানকোজেব জাতীয় ছত্রাক নাশক স্প্রে করতে হবে। করলা পামকিন বিটল দ্বারা আক্রান্ত হলে সাইপারমেথ্রিন গ্রুপের কীটনাশক স্প্রে করতে হরে।ফল ছিদ্রকারী পোকার জন্য বিষটোপ ব্যবহার করতে হবে। নিয়মিত বালাই নাশক ব্যবহার ছত্রাক দ্বারা সহজে আক্রান্ত হবে না।ফলের সাইজ ছোট ও ফলন কম হলে সলুবর বোরণ ও  জৈব উদ্দীপক হরমোন( জিবরেলিক এসিড, নাইট্রো বেনজিন ইত্যাদি) ১৫ দিন পর পর ৩-৪ বার ব্যবহার করতে হবে।

পরবর্তী পরিচর্যাঃ চারা মাঁচায় উঠার পযর্ন্ত পার্শ্ব কুশি ও মরা পাতা ছাঁটাই করতে হবে।নিড়ানী দিয়ে হবে।প্রয়োজনে সেচ ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখতে হবে।  আগাছা দমন করতে হবে।মাছি পোকা দ্বারা আক্রান্ত ফল সংগ্রহ করে মাটিতে পুতে ফেলতে হবে।

 



Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

9 thoughts on “করলা বা উচ্ছে চাষ পদ্ধতি”

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

করলা বা উচ্ছে চাষ পদ্ধতি

আপডেট সময় : ০৯:১৫:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২০

 

উচ্ছে বা করলা একটি উৎকৃষ্ট সবজি। ভেজষগুণযুক্ত সবজীগুলোর মধ্যে অন্যতম।

জাত: স্থানীয় জাতের করলা ছাড়া উফসী জাতের বারী-২ ও বারী-৩ বেশ ভালো। হাইব্রিড জাতের করলা চাষ করলে ফলন অনেক বেশী পাওয়া যায়। সুপ্রিম সীড, লালতীর, এসিআই,ইয়ং এর হাইব্রিড বীজ গুলো বেশ ভালো।

জমিঃ বাংলাদেশের সব এলাকা করলা চাষের উপযোগী।দোঁআশ পলি দো-আশ মাটি করলা চাষের জন্য বেশী উপযোগী।করলা চাষের জন্য মাটির কাঙ্কিত মান  পি এইচ ৫.৫ থেকে ৬.৭ এবং তাপমাত্রা ২৫0  সেঃ থেকে ৩০0 সেঃ।

জেনে নিন >> পটল চাষ:এক বার রোপণ করলে টানা চার বছর বিক্রি

বীজ বপনের সময়ঃ পৌষ ও মাঘ মাস ব্যাতিত সারা বছর করলা চাষ করা যায়।তবে ফাল্গুন-চৈত্র ছোট জাতের ও ভাদ্র-আশ্বিন বড় ও মাঝারী জাতের করলার বীজ বপনের উপযুক্ত সময়।

বীজের পরিমানঃ প্রতি শতাংশে ১০-১৫ গ্রাম এবং প্রতি একরে ১.২৫ কেজি থেকে ১.৫০ কেজি। তবে চারা শেডে(পলি ব্যাগে) তৈরী করলে বীজের পরিমান অনেক কম লাগে।

 


 

বীজ বপন পদ্ধতিঃ করলার বীজ সরাসরি বেডে বপন করা যায়। তবে শেডে চারা তৈরী করলে উৎপাদন খরচ কম হয়। বীজ বপনের পূর্বে বীজ রোদে  ১-২ ঘন্টা  রেখে ঠান্ডা করার পর ১২-১৫ ঘন্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। এতে অঙ্কুরোদগম দ্রুততর হয়।সারি থেকে সারি ৫ ফুট এবং চারা থেকে চারার দুরত্ব ৩ ফুট। নিদৃষ্ট দুরত্বে ২টি বীজ বপন করতে হবে।চারা একটু বড় হলে সুস্থ একটি চারা রেখে অন্যটি তুলে ফেলতে হবে। প্যাকেট এর চারা হলে চারা ২-৩ ইঞ্চি লম্বা (চারার বয়স ১৫-২০ দিন) হলে নিদৃষ্ট দুরত্বে একটি সবল চারা রোপন করতে হবে।

জেনে নিন>> লাভজনক পদ্ধতিতে ঝিঙ্গা চাষ পদ্ধতি

তৈরী ও সার প্রয়োগঃভালো ভাবে জমি চাষ করে রোদে শুকানোর সোর প্রয়োগ করতে হবে।

(প্রতি শতাংশে সার প্রয়োগ)

সার জমি তৈরীর সময় শেষ চাষের সময় প্রথম উপরী প্রয়োগ ২য় উপরী প্রয়োগ ৩য় উপরী প্রয়োগ
গোবর ৫০ কেজি – – – –
ইউরিয়া – ২০০ গ্রাম ২০০ গ্রাম ২০০ গ্রাম ২০০ গ্রাম
টিএসপি – ৮০০ গ্রাম – – –
এমওপি – ২০০ গ্রাম ২০০ গ্রাম ২০০ গ্রাম ২০০ গ্রাম
জিপসাম ৪০০ গ্রাম – – – –
জিংক – ৫০ গ্রাম – – –
বোরণ – ৫০ গ্রাম – – –

গাছের আকার ভালো না হলে ২য় ও ৩য় উপরী সার প্রয়োগের সময় প্রতি শতাংশে ২০০ গ্রাম ডিএপি প্রয়োগ করতে হবে।

সংগ্রহ ও ফলনঃ বীজ বপনের ৬০-৭০ দিন পর ফসল সংগ্রহ শুরু হয়।প্রতি একরে প্রায় ১১-১২ টন করলা পাওয়া যায়।

 


পোকামাকড় ও বলাই দমনঃ করলার চারা গজানোর পর থেকে নিয়মিত ম্যানকোজেব জাতীয় ছত্রাক নাশক স্প্রে করতে হবে। করলা পামকিন বিটল দ্বারা আক্রান্ত হলে সাইপারমেথ্রিন গ্রুপের কীটনাশক স্প্রে করতে হরে।ফল ছিদ্রকারী পোকার জন্য বিষটোপ ব্যবহার করতে হবে। নিয়মিত বালাই নাশক ব্যবহার ছত্রাক দ্বারা সহজে আক্রান্ত হবে না।ফলের সাইজ ছোট ও ফলন কম হলে সলুবর বোরণ ও  জৈব উদ্দীপক হরমোন( জিবরেলিক এসিড, নাইট্রো বেনজিন ইত্যাদি) ১৫ দিন পর পর ৩-৪ বার ব্যবহার করতে হবে।

পরবর্তী পরিচর্যাঃ চারা মাঁচায় উঠার পযর্ন্ত পার্শ্ব কুশি ও মরা পাতা ছাঁটাই করতে হবে।নিড়ানী দিয়ে হবে।প্রয়োজনে সেচ ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখতে হবে।  আগাছা দমন করতে হবে।মাছি পোকা দ্বারা আক্রান্ত ফল সংগ্রহ করে মাটিতে পুতে ফেলতে হবে।

 



Facebook Comments Box