ঢাকা ১১:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নয়াদিল্লিতে নতুন হাইকমিশনারের অনুমোদন ঝুলে থাকায় বেড়েছে কূটনৈতিক জটিলতা নাটকীয় জয়ে বার্সার পাশে রিয়াল, তবুও অসন্তুষ্ট মরিনহো সিডনির বাসে স্কুলছাত্রীকে ‘অভিবাসী সন্ত্রাসী’ বলে গালাগাল বাংলাদেশের ঋণমানের পূর্বাভাসে উন্নতির স্বীকৃতি মুডিসের দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারি চাকরির সাক্ষাৎকারে নতুন পোশাক নীতি সৌদির প্রিন্স মোহাম্মদ স্টেডিয়ামের মেকানিক্যাল কাজের দায়িত্ব কাতারি আজ বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর: আজকের নামাজের সময়সুচী শুভ সকাল; আজ বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর : আজকের পূর্ণাঙ্গ পঞ্জিকা ঠাকুরগাঁওয়ে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে জুয়া, গ্রেপ্তার ৪ বিশ্বনাথে ঘরে ঢুকে ছাত্রদলের নেতাকে মারধর-লুট ও ভাংচুরের ঘটনায় মামলা দায়ের

বারি টমেটো-৪ চাষের কৌশল

সৃষ্টি কৃষি ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:০৩:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১২৭৪ বার পড়া হয়েছে

বারি টমেটো-৪ চাষের কৌশল

আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বারি টমেটো-৪ চাষের কৌশল।

বারি টমেটো-৪

টমেটো ভিটামিন সমৃদ্ধ একটি শীতকালীন সবজি। তবে গ্রীষ্ম ও বর্ষা কালে চাষের উপযোগী বেশ কয়েকটি জাত উদ্ভাবন করেছে। বাংলাদেশে ২০১৬-১৭ সালে প্রায় ২৭৬.৬৬ হাজার হেক্টর জমিতে টমেটো চাষ করা হয় এবং মোট ফলন ৩৮৮৭.২৫ হাজার টন। এতে আমিষ, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ‘এ’ এবং ভিটামিন ‘সি’ রয়েছে।

জাতের প্রকারভেদে টমেটোতে সাধারণত ৩০৫ আইইউ ভক্ষণযোগ্য বিটা ক্যারোটিন রয়েছে। এ জাতটি ১৯৯৬ সালে অনুমোদন করা হয়। ফলের রং লাল এবং গোলাকার। প্রতিটি ফলের ওজন ৩৫-৪০ গ্রাম। প্রতিটি গাছে ২০-২৫টি ফল ধরে। গাছপ্রতি ফলন প্রায় ৯০০-১০০০ গ্রাম। চারা লাগানোর ৬০-৬৫ দিনের মধ্যে ফল সংগ্রহ শুরু করা যায়। চারা লাগানোর পর থেকে জীবনকাল ৯০-৯৫ দিন।

এই জাতটি উচ্চ তাপ সহনশীল এবং সারা বছরই এর চাষ করা যায়। গ্রীষ্ম ও বর্ষা মৌসুমে পলিথিন ছাউনিতে চাষ করতে হয় এবং হরমোন প্রয়োগে ফলন বৃদ্ধি পায়।

উন্নত পদ্ধতিতে চাষ করলে বর্ষা মৌসুমে ফলন হেক্টরপ্রতি ২০-২২ টন হয়। বারি টমেটো-১ এর ফসল বারি টমেটো-২ এর ফসল বারি টমেটো-৩ এর ফসল বারি টমেটো-৪ আগাম সবজি হিসেবে ভাদ্র-আশ্বিন (মধ্য-আগস্ট থেকে মধ্য-সেপ্টেম্বর) মাসে ‘বারি টমেটো-৪’ জাত চাষ করা যায়। এ জাত চাষ করে বর্ষা মৌসুমে আর্থিক দিক থেকে অধিক লাভবান হওয়া যায়।

মাটি: টমেটো এদেশে শীতকালীন ফসল। উচ্চ তাপমাত্রা এবং বাতাসের আর্দ্রতা টমেটো গাছে রোগ বিস্তারে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে। আবার উচ্চ তাপমাত্রা ও শুষ্ক আবহাওয়ায় ফুল ঝরে পড়ে।

রাত্রির তাপমাত্রা ২৩০ সে. এর নিচে থাকলে তা গাছে ফুল ও ফল ধারণের জন্য বেশি উপযোগী। গড় তাপমাত্রা ২০-২৫০ সে. টমেটোর ভাল ফলনের জন্য সবচেয়ে উপযোগী। আলো-বাতাস যুক্ত ঊর্বর দোঁআশ মাটি টমেটো চাষের জন্য সবচেয়ে ভাল।

তবে উপযুক্ত পরিচর্যায় বেলে দোঁআশ থেকে এঁটেল দোঁআশ সব মাটিতেই টমেটো ভাল জন্মে। বন্যার পানিতে ডুবে যায় এমন জমিতে এর ফলন সবচেয়ে ভাল হয়। মাটির অম্লতা ৬০ – ৭০ হলে ভাল হয়। মাটির অম্লতা বেশি হলে জমিতে চুন প্রয়োগ করা উচিত।

ঊর্বর দোঁআশ মাটি টমেটো চাষের জন্য সবচেয়ে ভাল। তবে উপযুক্ত পরিচর্যায় বেলে দোঁআশ থেকে এঁটেল দোঁআশ সব মাটিতেই টমেটো ভাল জন্মে। বন্যার পানিতে ডুবে যায় এমন জমিতে এর ফলন সবচেয়ে ভাল হয়। মাটির অম্লতা ৬০ – ৭০ হলে ভাল হয়। মাটির অম্লতা বেশি হলে জমিতে চুন প্রয়োগ করা উচিত।

জেনে নিন>> টমেটোর রোগ,রোগের কারণ ও প্রতিকার

জমি তৈরি: টমেটোর ভাল ফলন অনেকাংশেই জমি তৈরির উপর নির্ভর করে। তাই ৪-৫ বার চাষ ও মই দিয়ে মাটি ঝুরঝুরে করে নিতে হবে।

মাটির প্রকৃতি ও স্থানভেদে ১ মিটার চওড়া ও ১৫-২০ সেমি উঁচু বেড তৈরি করতে হবে। দুটি বেডের মাঝে ৩০ সেমি চওড়া নালা করতে হবে যাতে পানি সেচ ও নিষ্কাশনের সুবিধা হয়।

চারা রোপণ :চারার বয়স ৩০-৩৫ দিন অথবা ৪-৬ পাতা বিশিষ্ট হলে জমিতে রোপণ করতে হবে। এক মিটার চওড়া বেডে দুই সারি করে চারা লাগাতে হবে। এক্ষেত্রে সারি থেকে সারির দূরত্ব ৬০ সেমি এবং সারির উপরে চারা থেকে চারা ৪০ সেমি দূরত্বে লাগাতে হবে।

বীজতলা থেকে চারা অত্যন্ত যত্ন সহকারে তুলতে হবে যেন চারার শিকড় ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। এ জন্য চারা তোলার আগে বীজতলার মাটি ভিজিয়ে নিতে হবে। বিকেলের পড়ন্ত রোদে চারা রোপণ করাই উত্তম এবং লাগানোর পর গোড়ায় হালকা সেচ প্রদান করতে হবে।

ফসল সারের প্রয়োগ: ( প্রতি শতাংশে) জেনে নিন>>লাভজনক উপায়ে বেগুন চাষ পদ্ধতি

শেষ চাষের সময় সবটুকু গোবর/কম্পোস্ট, টিএসপি, জিপসাম, জিংক সালফেট, বরিক এসিড এবং অর্ধেক এমপি সার জমিতে ভালভাবে ছিটিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে।

বাকি অর্ধেক এমপি সার দুই কিস্তেতে চারা লাগানোর ২৫ দিন ও ৪০ দিন পর উপরি প্রয়োগ করতে হবে। ইউরিয়া সার তিন কিস্তিতে চারা লাগানোর ১০, ২৫ ও ৪০ দিন পর উপরি প্রয়োগ করতে হবে। উপরি প্রয়োগকৃত ইউরিয়া এবং এমপি সার গাছের গোড়ায় ১০-১৫ সেমি দূরে মাটির সঙ্গে ভাল করে মিশিয়ে দিতে হবে।

কম উর্বরা শক্তি জমির জন্য : ইউরিয়া:-১ম উপরিপ্রয়োগ চারা লাগানোর ১০ দিন পর, ০.৩৬ কেজি, ২য় উপরিপ্রয়োগ চারা লাগানোর ২৫ দিন পর ০.৩৬ কেজি; ৩য় উপরিপ্রয়োগ চারা লাগানোর ৪০ দিন পর ০.৩৬ কেজি।

টিএসপি: জমি তৈরির সময় ০.৯১ কেজি
এমওপি: শেষ চাষের সময় ০.১৭ কেজি; ১ম উপরিপ্রয়োগ চারা লাগানোর ২৫ দিন পর ০.১৭ কেজি; ২য় উপরিপ্রয়োগ চারা লাগানোর ৪০ দিন পর ০.১৭ কেজি।

বোরিক এসিড: জমি তৈরির সময় ০.০৩ কেজি
জিপসাম: জমি তৈরির সময় ০.৫৪ কেজি।

জিংক সালফেট: জমি তৈরির সময় ০.০৩ কেজি
গোবর/কম্পোস্ট: জমি তৈরির সময় ৬০ কেজি।

মধ্যম শক্তি জমির জন্য : শক্তি জমির জন্য-১ম উপরিপ্রয়োগ চারা লাগানোর ১০ দিন পর, ০.১২ কেজি, ২য় উপরিপ্রয়োগ চারা লাগানোর ২৫ দিন পর ০.১২ কেজি ; ৩য় উপরিপ্রয়োগ চারা লাগানোর ৪০ দিন পর ০.১২ কেজি।

টিএসপি: জমি তৈরির সময়  ০.৬১ কেজি
এমওপি: শেষ চাষের সময় ০.১১ কেজি; ১ম উপরিপ্রয়োগ চারা লাগানোর ২৫ দিন পর ০.১১ কেজি; ২য় উপরিপ্রয়োগ চারা লাগানোর ৪০ দিন পর ০.১১ কেজি।

বোরিক এসিড: জমি তৈরির সময় ০.০২ কেজি
জিপসাম: জমি তৈরির সময় ০.৩৬ কেজি
জিংক সালফেট: জমি তৈরির সময় ০.০২ কেজি
গোবর/কম্পোস্ট: জমি তৈরির সময় ৪০ কেজি।

জেনে নিন>>শীতে আলুর সার প্রয়োগ ও পরিচর্যা

বেশি শক্তি জমির জন্য: শক্তি জমির জন্য-১ম উপরিপ্রয়োগ চারা লাগানোর ১০ দিন পর, ০.১২ কেজি, ২য় উপরিপ্রয়োগ চারা লাগানোর ২৫ দিন পর ০.১২ কেজি ; ৩য় উপরিপ্রয়োগ চারা লাগানোর ৪০ দিন পর ০.১২ কেজি।

টিএসপি: জমি তৈরির সময়  ০.৩০ কেজি
এমওপি: শেষ চাষের সময় ০.০৬ কেজি; ১ম উপরিপ্রয়োগ চারা লাগানোর ২৫ দিন পর ০.০৬ কেজি; ২য় উপরিপ্রয়োগ চারা লাগানোর ৪০ দিন পর ০.০৬ কেজি।

বোরিক এসিড:০.০২কেজি জমি তৈরির সময়।

জিপসাম: জমি তৈরির সময় ০.১৮ কেজি
জিংক সালফেট: ০.০২কজি জমি তৈরির সময়।
গোবর/কম্পোস্ট: জমি তৈরির সময় ২০ কেজি।

চারা রোপণ : চারার বয়স ৩০-৩৫ দিন হলে বীজতলা থেকে উঠিয়ে মূল জমিতে রোপণ করতে হবে। এক মিটার চওড়া বেডে দুই সারি করে চারা লাগাতে হবে। এক্ষেত্রে সারি থেকে সারির দূরত্ব ৬০ সেমি এবং সারিতে চারা থেকে চারার দূরত্ব হবে ৪০ সেমি।

বীজতলা থেকে চারা অত্যন্ত যত্ন সহকারে তুলতে হবে যেন চারার শিকড় ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। বিকেলের পড়ন্ত রোদে চারা রোপণ করাই উত্তম। লাগানোর পর গোড়ায় হালকা সেচ প্রদান করতে হবে।

জেনে নিন>>রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও উচ্চ ফলনশীল টমেটোর জাতগুলো থেকে জেনে নিন কোনটি চাষ করে লাভবান হবেন

পরবর্তী পরিচর্যা :

সেচ ও নিষ্কাশন: চারা রোপণের ৩-৪ দিন পর পর্যন্ত হালকা সেচ ও পরবর্তীতে প্রতি কি¯িত সার প্রয়োগের পর জমিতে সেচ দিতে হয়। গ্রীষ্ম মৌসুমে টমেটো চাষের জন্য ঘন ঘন সেচের প্রয়োজন হয়। বর্ষা মৌসুমে তেমন একটা সেচের প্রয়োজন হয় না। টমেটো গাছ জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে না। সেচ অথবা বৃষ্টির অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য নালা পরিমিত চওড়া (৩০-৪০ সেমি) এবং এক দিকে মৃদু ঢালু হওয়া বাঞ্চণীয়।

আগাছা দমন: টমেটোর জমিকে প্রয়োজনীয় নিড়ানী দিয়ে আগছামুক্ত রাখতে হবে।

সার উপরি প্রয়োগ: সময়মতো বর্ণিত মাত্রায় প্রয়োজনীয় সার উপরি প্রয়োগ করতে হবে।

বিশেষ পরিচর্যা: ১ম ফুলের গোছার ঠিক নিচের কুশিটি ছাড়া সব পার্শ্ব কুশি ছাঁটাই করতে হবে। গাছে বাঁশের খুঁটি দিয়ে ঠেকনা দিতে হবে।

ফসল তোলা (পরিপক্কতা সনাক্তকরণ): ফলের ঠিক নিচে ফুল ঝরে যাওয়ার পর যে দাগ থাকে ঐ স্থান থেকে লালচে ভাব শুরু হলেই ফল সংগ্রহ করতে হবে বাজার জাতকরণের জন্য। এতে ফল অনেকদিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়।

জেনে নিন>> বারি টমেটো-৩ চাষ করার কৌশল

জেনে নিন>> বারি টমেটো-২ (রতন) চাষ পদ্ধতি

জেনে নিন>> বারি টমেটো-১ (মানিক) চাষ পদ্ধতি

জেনে নিন>>> কি ভাবে বারি টমেটো-৫ চাষ করবেন

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

2 thoughts on “বারি টমেটো-৪ চাষের কৌশল

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বারি টমেটো-৪ চাষের কৌশল

আপডেট সময় : ১০:০৩:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২২

বারি টমেটো-৪ চাষের কৌশল।

বারি টমেটো-৪

টমেটো ভিটামিন সমৃদ্ধ একটি শীতকালীন সবজি। তবে গ্রীষ্ম ও বর্ষা কালে চাষের উপযোগী বেশ কয়েকটি জাত উদ্ভাবন করেছে। বাংলাদেশে ২০১৬-১৭ সালে প্রায় ২৭৬.৬৬ হাজার হেক্টর জমিতে টমেটো চাষ করা হয় এবং মোট ফলন ৩৮৮৭.২৫ হাজার টন। এতে আমিষ, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ‘এ’ এবং ভিটামিন ‘সি’ রয়েছে।

জাতের প্রকারভেদে টমেটোতে সাধারণত ৩০৫ আইইউ ভক্ষণযোগ্য বিটা ক্যারোটিন রয়েছে। এ জাতটি ১৯৯৬ সালে অনুমোদন করা হয়। ফলের রং লাল এবং গোলাকার। প্রতিটি ফলের ওজন ৩৫-৪০ গ্রাম। প্রতিটি গাছে ২০-২৫টি ফল ধরে। গাছপ্রতি ফলন প্রায় ৯০০-১০০০ গ্রাম। চারা লাগানোর ৬০-৬৫ দিনের মধ্যে ফল সংগ্রহ শুরু করা যায়। চারা লাগানোর পর থেকে জীবনকাল ৯০-৯৫ দিন।

এই জাতটি উচ্চ তাপ সহনশীল এবং সারা বছরই এর চাষ করা যায়। গ্রীষ্ম ও বর্ষা মৌসুমে পলিথিন ছাউনিতে চাষ করতে হয় এবং হরমোন প্রয়োগে ফলন বৃদ্ধি পায়।

উন্নত পদ্ধতিতে চাষ করলে বর্ষা মৌসুমে ফলন হেক্টরপ্রতি ২০-২২ টন হয়। বারি টমেটো-১ এর ফসল বারি টমেটো-২ এর ফসল বারি টমেটো-৩ এর ফসল বারি টমেটো-৪ আগাম সবজি হিসেবে ভাদ্র-আশ্বিন (মধ্য-আগস্ট থেকে মধ্য-সেপ্টেম্বর) মাসে ‘বারি টমেটো-৪’ জাত চাষ করা যায়। এ জাত চাষ করে বর্ষা মৌসুমে আর্থিক দিক থেকে অধিক লাভবান হওয়া যায়।

মাটি: টমেটো এদেশে শীতকালীন ফসল। উচ্চ তাপমাত্রা এবং বাতাসের আর্দ্রতা টমেটো গাছে রোগ বিস্তারে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে। আবার উচ্চ তাপমাত্রা ও শুষ্ক আবহাওয়ায় ফুল ঝরে পড়ে।

রাত্রির তাপমাত্রা ২৩০ সে. এর নিচে থাকলে তা গাছে ফুল ও ফল ধারণের জন্য বেশি উপযোগী। গড় তাপমাত্রা ২০-২৫০ সে. টমেটোর ভাল ফলনের জন্য সবচেয়ে উপযোগী। আলো-বাতাস যুক্ত ঊর্বর দোঁআশ মাটি টমেটো চাষের জন্য সবচেয়ে ভাল।

তবে উপযুক্ত পরিচর্যায় বেলে দোঁআশ থেকে এঁটেল দোঁআশ সব মাটিতেই টমেটো ভাল জন্মে। বন্যার পানিতে ডুবে যায় এমন জমিতে এর ফলন সবচেয়ে ভাল হয়। মাটির অম্লতা ৬০ – ৭০ হলে ভাল হয়। মাটির অম্লতা বেশি হলে জমিতে চুন প্রয়োগ করা উচিত।

ঊর্বর দোঁআশ মাটি টমেটো চাষের জন্য সবচেয়ে ভাল। তবে উপযুক্ত পরিচর্যায় বেলে দোঁআশ থেকে এঁটেল দোঁআশ সব মাটিতেই টমেটো ভাল জন্মে। বন্যার পানিতে ডুবে যায় এমন জমিতে এর ফলন সবচেয়ে ভাল হয়। মাটির অম্লতা ৬০ – ৭০ হলে ভাল হয়। মাটির অম্লতা বেশি হলে জমিতে চুন প্রয়োগ করা উচিত।

জেনে নিন>> টমেটোর রোগ,রোগের কারণ ও প্রতিকার

জমি তৈরি: টমেটোর ভাল ফলন অনেকাংশেই জমি তৈরির উপর নির্ভর করে। তাই ৪-৫ বার চাষ ও মই দিয়ে মাটি ঝুরঝুরে করে নিতে হবে।

মাটির প্রকৃতি ও স্থানভেদে ১ মিটার চওড়া ও ১৫-২০ সেমি উঁচু বেড তৈরি করতে হবে। দুটি বেডের মাঝে ৩০ সেমি চওড়া নালা করতে হবে যাতে পানি সেচ ও নিষ্কাশনের সুবিধা হয়।

চারা রোপণ :চারার বয়স ৩০-৩৫ দিন অথবা ৪-৬ পাতা বিশিষ্ট হলে জমিতে রোপণ করতে হবে। এক মিটার চওড়া বেডে দুই সারি করে চারা লাগাতে হবে। এক্ষেত্রে সারি থেকে সারির দূরত্ব ৬০ সেমি এবং সারির উপরে চারা থেকে চারা ৪০ সেমি দূরত্বে লাগাতে হবে।

বীজতলা থেকে চারা অত্যন্ত যত্ন সহকারে তুলতে হবে যেন চারার শিকড় ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। এ জন্য চারা তোলার আগে বীজতলার মাটি ভিজিয়ে নিতে হবে। বিকেলের পড়ন্ত রোদে চারা রোপণ করাই উত্তম এবং লাগানোর পর গোড়ায় হালকা সেচ প্রদান করতে হবে।

ফসল সারের প্রয়োগ: ( প্রতি শতাংশে) জেনে নিন>>লাভজনক উপায়ে বেগুন চাষ পদ্ধতি

শেষ চাষের সময় সবটুকু গোবর/কম্পোস্ট, টিএসপি, জিপসাম, জিংক সালফেট, বরিক এসিড এবং অর্ধেক এমপি সার জমিতে ভালভাবে ছিটিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে।

বাকি অর্ধেক এমপি সার দুই কিস্তেতে চারা লাগানোর ২৫ দিন ও ৪০ দিন পর উপরি প্রয়োগ করতে হবে। ইউরিয়া সার তিন কিস্তিতে চারা লাগানোর ১০, ২৫ ও ৪০ দিন পর উপরি প্রয়োগ করতে হবে। উপরি প্রয়োগকৃত ইউরিয়া এবং এমপি সার গাছের গোড়ায় ১০-১৫ সেমি দূরে মাটির সঙ্গে ভাল করে মিশিয়ে দিতে হবে।

কম উর্বরা শক্তি জমির জন্য : ইউরিয়া:-১ম উপরিপ্রয়োগ চারা লাগানোর ১০ দিন পর, ০.৩৬ কেজি, ২য় উপরিপ্রয়োগ চারা লাগানোর ২৫ দিন পর ০.৩৬ কেজি; ৩য় উপরিপ্রয়োগ চারা লাগানোর ৪০ দিন পর ০.৩৬ কেজি।

টিএসপি: জমি তৈরির সময় ০.৯১ কেজি
এমওপি: শেষ চাষের সময় ০.১৭ কেজি; ১ম উপরিপ্রয়োগ চারা লাগানোর ২৫ দিন পর ০.১৭ কেজি; ২য় উপরিপ্রয়োগ চারা লাগানোর ৪০ দিন পর ০.১৭ কেজি।

বোরিক এসিড: জমি তৈরির সময় ০.০৩ কেজি
জিপসাম: জমি তৈরির সময় ০.৫৪ কেজি।

জিংক সালফেট: জমি তৈরির সময় ০.০৩ কেজি
গোবর/কম্পোস্ট: জমি তৈরির সময় ৬০ কেজি।

মধ্যম শক্তি জমির জন্য : শক্তি জমির জন্য-১ম উপরিপ্রয়োগ চারা লাগানোর ১০ দিন পর, ০.১২ কেজি, ২য় উপরিপ্রয়োগ চারা লাগানোর ২৫ দিন পর ০.১২ কেজি ; ৩য় উপরিপ্রয়োগ চারা লাগানোর ৪০ দিন পর ০.১২ কেজি।

টিএসপি: জমি তৈরির সময়  ০.৬১ কেজি
এমওপি: শেষ চাষের সময় ০.১১ কেজি; ১ম উপরিপ্রয়োগ চারা লাগানোর ২৫ দিন পর ০.১১ কেজি; ২য় উপরিপ্রয়োগ চারা লাগানোর ৪০ দিন পর ০.১১ কেজি।

বোরিক এসিড: জমি তৈরির সময় ০.০২ কেজি
জিপসাম: জমি তৈরির সময় ০.৩৬ কেজি
জিংক সালফেট: জমি তৈরির সময় ০.০২ কেজি
গোবর/কম্পোস্ট: জমি তৈরির সময় ৪০ কেজি।

জেনে নিন>>শীতে আলুর সার প্রয়োগ ও পরিচর্যা

বেশি শক্তি জমির জন্য: শক্তি জমির জন্য-১ম উপরিপ্রয়োগ চারা লাগানোর ১০ দিন পর, ০.১২ কেজি, ২য় উপরিপ্রয়োগ চারা লাগানোর ২৫ দিন পর ০.১২ কেজি ; ৩য় উপরিপ্রয়োগ চারা লাগানোর ৪০ দিন পর ০.১২ কেজি।

টিএসপি: জমি তৈরির সময়  ০.৩০ কেজি
এমওপি: শেষ চাষের সময় ০.০৬ কেজি; ১ম উপরিপ্রয়োগ চারা লাগানোর ২৫ দিন পর ০.০৬ কেজি; ২য় উপরিপ্রয়োগ চারা লাগানোর ৪০ দিন পর ০.০৬ কেজি।

বোরিক এসিড:০.০২কেজি জমি তৈরির সময়।

জিপসাম: জমি তৈরির সময় ০.১৮ কেজি
জিংক সালফেট: ০.০২কজি জমি তৈরির সময়।
গোবর/কম্পোস্ট: জমি তৈরির সময় ২০ কেজি।

চারা রোপণ : চারার বয়স ৩০-৩৫ দিন হলে বীজতলা থেকে উঠিয়ে মূল জমিতে রোপণ করতে হবে। এক মিটার চওড়া বেডে দুই সারি করে চারা লাগাতে হবে। এক্ষেত্রে সারি থেকে সারির দূরত্ব ৬০ সেমি এবং সারিতে চারা থেকে চারার দূরত্ব হবে ৪০ সেমি।

বীজতলা থেকে চারা অত্যন্ত যত্ন সহকারে তুলতে হবে যেন চারার শিকড় ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। বিকেলের পড়ন্ত রোদে চারা রোপণ করাই উত্তম। লাগানোর পর গোড়ায় হালকা সেচ প্রদান করতে হবে।

জেনে নিন>>রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও উচ্চ ফলনশীল টমেটোর জাতগুলো থেকে জেনে নিন কোনটি চাষ করে লাভবান হবেন

পরবর্তী পরিচর্যা :

সেচ ও নিষ্কাশন: চারা রোপণের ৩-৪ দিন পর পর্যন্ত হালকা সেচ ও পরবর্তীতে প্রতি কি¯িত সার প্রয়োগের পর জমিতে সেচ দিতে হয়। গ্রীষ্ম মৌসুমে টমেটো চাষের জন্য ঘন ঘন সেচের প্রয়োজন হয়। বর্ষা মৌসুমে তেমন একটা সেচের প্রয়োজন হয় না। টমেটো গাছ জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে না। সেচ অথবা বৃষ্টির অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য নালা পরিমিত চওড়া (৩০-৪০ সেমি) এবং এক দিকে মৃদু ঢালু হওয়া বাঞ্চণীয়।

আগাছা দমন: টমেটোর জমিকে প্রয়োজনীয় নিড়ানী দিয়ে আগছামুক্ত রাখতে হবে।

সার উপরি প্রয়োগ: সময়মতো বর্ণিত মাত্রায় প্রয়োজনীয় সার উপরি প্রয়োগ করতে হবে।

বিশেষ পরিচর্যা: ১ম ফুলের গোছার ঠিক নিচের কুশিটি ছাড়া সব পার্শ্ব কুশি ছাঁটাই করতে হবে। গাছে বাঁশের খুঁটি দিয়ে ঠেকনা দিতে হবে।

ফসল তোলা (পরিপক্কতা সনাক্তকরণ): ফলের ঠিক নিচে ফুল ঝরে যাওয়ার পর যে দাগ থাকে ঐ স্থান থেকে লালচে ভাব শুরু হলেই ফল সংগ্রহ করতে হবে বাজার জাতকরণের জন্য। এতে ফল অনেকদিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়।

জেনে নিন>> বারি টমেটো-৩ চাষ করার কৌশল

জেনে নিন>> বারি টমেটো-২ (রতন) চাষ পদ্ধতি

জেনে নিন>> বারি টমেটো-১ (মানিক) চাষ পদ্ধতি

জেনে নিন>>> কি ভাবে বারি টমেটো-৫ চাষ করবেন

Facebook Comments Box