নার্গিসকে লেখা কাজী নজরুল ইসলাম এর দুর্লভ চিঠি : দৈনিক সৃষ্টি নিউজ
  1. admin@sristy.net : admin :
নার্গিসকে লেখা কাজী নজরুল ইসলাম এর দুর্লভ চিঠি : দৈনিক সৃষ্টি নিউজ
বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৩০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
প্রেক্ষাপট: মালয়েশিয়ার বিমানবন্দরে ভুয়া ভিসায় আটকের তালিকায় শীর্ষে বাংলাদেশিরা কাতারে সুলতান হাইথাম বিন তারিক: আমির শেখ তামিমের সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত প্রেক্ষাপট: এনজিও কর্মীদের প্রগতি পেনশন স্কিমে যুক্ত হওয়ার আহ্বান অর্থ উপদেষ্টার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিল-স্বাক্ষর জালিয়াতি: ছয়জনের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ভূরুঙ্গামারীতে শিক্ষার্থী ঝরে পড়া রোধে অভিভাবক সমাবেশ নারায়ণগঞ্জে কোচিং ফি বকেয়া থাকায় ২১ শিক্ষার্থীকে এক ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রাখার অভিযোগ আমদানি বাণিজ্যে গতি আনতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন সমন্বিত সার্কুলার জারি শাকিবের নতুন সিনেমা ‘নিঃস্ব’: নায়িকা হিসেবে চূড়ান্ত ইধিকা পাল ভূরুঙ্গামারীতে ইয়াবাসহ মাদককারবারি গ্রেফতার

নার্গিসকে লেখা কাজী নজরুল ইসলাম এর দুর্লভ চিঠি

সৃষ্টি ডেস্ক :
  • প্রকাশিত : শুক্রবার, ২৭ মে, ২০২২
poet kazi najrul
নার্গিস কে লেখা কাজী নজরুল ইসলাম এর দুর্লভ চিঠি

কল্যাণীয়াসু,

তোমার পত্র পেয়েছি সেদিন নব বর্ষার নবঘন-সিক্ত প্রভাতে।মেঘ মেদুর গগনে সেদিন অশান্ত ধারায় বারি ঝরছিল।পনের বছর আগে এমনি এক আষাঢ়ে এমনি এক বারিধারায় প্লাবন নেমেছিল, তা তুমিও হয়তো স্মরণ করতে পারো।আষাঢ়ের নব মেঘপুঞ্জকে আমার নমস্কার।এই মেঘদূত বিরহী যক্ষের বাণী বহন করে নিয়ে গিয়েছিল কালিদাসের যুগে, রেবা নদীর তীরে, মালবিকার দেশে, তার প্রিয়ার কাছে।এই মেঘপুঞ্জের আশীর্বাণী আমার জীবনে এনে দেয় চরম বেদনার সঞ্চার। এই আষাঢ় আমায় কল্পনার স্বর্গলোক থেকে টেনে ভাসিয়ে দিয়েছে বেদনার অনন্ত স্রোতে।যাক, তোমার অনুযোগের অভিযোগের উত্তর দেই।তুমি বিশ্বাস করো, আমি যা লিখছি তা সত্য।লোকের মুখে শোনা কথা দিয়ে যদি আমার মূর্তির কল্পনা করে থাকো, তাহলে আমায় ভুল বুঝবে-আর তা মিথ্যা।

তোমার উপর আমি কোনো ‘জিঘাংসা’ পোষণ করিনা-এ সকল আমি অন্তর দিয়ে বলছি।আমার অন্তর্যামী জানেন তোমার জন্য আমার হৃদয়ে কি গভীর ক্ষত, কি অসীম বেদনা! কিন্তু সে বেদনার আগুনে আমিই পুড়েছি, তা দিয়ে তোমায় কোনোদিন দগ্ধ করতে চাইনি। তুমি এই আগুনের পরশমানিক না দিলে আমি ‘অগ্নিবীণা’ বাজাতে পারতাম না।

 

আমি ধুমকেতুর বিস্ময় নিয়ে উদিত হতে পারতাম না।তোমার যে কল্যাণ রূপ আমি আমার কিশোর বয়সে প্রথম দেখেছিলাম, যে রূপকে আমার জীবনের সর্বপ্রথম ভালবাসার আঞ্জলি দিয়েছিলাম,সে রূপ আজো স্বর্গের পারিজাত-মন্দারের মতো চির অম্লান হয়েই আছে আমার বক্ষে।অন্তরের সে আগুন-বাইরের সে ফুলহারকে স্পর্শ করতে পারেনি ।তুমি ভুলে যেওনা আমি কবি, আমি আঘাত করলেও ফুল দিয়ে আঘাত করি।অসুন্দর কুৎসিতের সাধনা আমার নয়।

 

আমার আঘাত বর্বর কাপুরুষের আঘাতের মতো নিষ্ঠুর নয়।আমার অন্তর্যামী জানেন (তুমি কি জান বা শুনেছ জানিনা) তোমার বিরুদ্ধে আজ আমার কোন অনুযোগ নেই, অভিযোগ নেই, দাবীও নেই।
তোমার আজিকার রূপ কি জানিনা।আমি জানি তোমার সেই কিশোরি মুর্তিকে, যাকে দেবীমূর্তির মতো আমার হৃদয় বেদীতে অনন্ত প্রেম, অনন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলাম। সেদিনের তুমি সে বেদী গ্রহণ করলেনা। পাষাণ দেবীর মতই তুমি বেছে নিলে বেদনার বেদিপাঠ জীবন ভরে সেখানেই চলেছে আমার পূজা আরতি।

 

আজকার তুমি আমার কাছে মিথ্যা, ব্যর্থ; তাই তাকে পেতে চাইনে।জানিনে হয়ত সে রূপ দেখে বঞ্চিত হব, অধিকতর বেদনা পাব, তাই তাকে অস্বীকার করেই চলেছি।

দেখা? না-ই হ’ল এ ধূলির ধরায়। প্রেমের ফুল এ ধূলিতলে হয়ে যায় ম্লান, দগ্ধ, হতশ্রী। তুমি যদি সত্যিই আমায় ভালবাস আমাকে চাও ওখান থেকেই আমাকে পাবে। লাইলি মজনুকে পায়নি, শিরি ফরহাদকে পায়নি, তবু তাদের মত করে কেউ কারো প্রিয়তমাকে পায়নি। আত্মহত্যা মহাপাপ, এ অতি পুরাতন কথা হলেও প্রেম সত্য।আত্মা অবিনশ্বর, আত্মাকে কেউ হত্যা করতে পারেনা। প্রেমের সোনার কাঠির স্পর্শ যদি পেয়ে থাকো, তাহলে তোমার মতো ভাগ্যবতী আর কে আছে? তারি মায়া স্পর্শে তোমার সকল কিছু আলোয় আলোময় হয়ে উঠবে।
দুঃখ নিয়ে এক ঘর থেকে অন্য ঘরে গেলেই সেই দুঃখের অবসান হয়না।

 

মানুষ ইচ্ছা করলে সাধনা দিয়ে, তপস্যা দিয়ে ভুলকে ফুল রূপে ফুটিয়ে তুলতে পারে।যদি কোনো ভুল করে থাক জীবনে, এই জীবনেই তাকে সংশোধন করে যেতে হবে; তবেই পাবে আনন্দ মুক্তি; তবেই হবে সর্ব দুঃখের অবসান।নিজেকে উন্নত করতে চেষ্টা করো, স্বয়ং বিধাতা তোমার সহায় হবেন।আমি সংসার করছি, তবু চলে গেছি এই সংসারের বাধাকে অতক্রম করে উর্ধ্ব লোকে। সেখানে গেলে পৃ্থবিীর সকল অপূর্ণতা, সকল অপরাধ ক্ষমা সুন্দর চোখে পরম মনোহর মূর্তিতে দেখা যায়।

হঠাৎ মনে পড়ে গেল পনর বছর আগের কথা।তোমার জ্বর হয়েছিল, বহু সাধনার পর আমার তৃষিত দুটি কর তোমার শুভ্র ললাট স্পর্শ করতে পেরেছিল; তোমার তপ্ত ললাটের স্পর্শ যেন আজো অনুভব করতে পারি।তুমি কি চিয়ে দেখেছিলে? আমার চোখে ছিলো জল, হাতে সেবা করার আকুল স্পৃহা, অন্তরে শ্রীবিধাতার চরণে তোমার আরোগ্য লাভের জন্য করুন মিনতি।মনে হয় যেন কালকের কথা।মহাকাল যে স্মৃতি মুছে ফেলতে পারলেন না। কী উদগ্র অতৃপ্তি, কী দুর্দমনীয় প্রেমের জোয়ারই সেদিন এসেছিল। সারা দিন রাত আমার চোখে ঘুম ছিল না ।যাক আজ চলেছি জীবনের অস্তমান দিনের শেষে রশ্মি ধরে ভাটার স্রোতে, তোমার ক্ষমতা নেই সে পথ থেকে ফেরানোর।আর তার চেষ্টা করোনা।তোমাকে লিখা এই আমার প্রথম ও শেষ চিঠি হোক।যেখানেই থাকি বিশ্বাস করো আমার অক্ষয় আশির্বাদ কবচ তোমায় ঘিরে থাকবে।তুমি সুখি হও, শান্তি পাও, এই প্রার্থনা।আমায় যত মন্দ বলে বিশ্বাস করো, আমি তত মন্দ নই, এই আমার শেষ কৈফিয়ৎ।
ইতি-
নিত্য শুভার্থী
নজরুল ইসলাম
সংগৃহীত

 

কাজী নজরুল ইসলামের  আরও লেখা পড়ুন

বেশ্যা -কাজী নজরুল ইসলাম

 লিচু চোর  -কাজী নজরুল ইসলাম

চৈতী হাওয়া -কাজী নজরুল ইসলাম

স্বপ্নে দেখি একটি নতুন ঘর -কাজী নজরুল ইসলাম 

“খুকি ও কাঠবেড়ালি”-কাজী নজরুল ইসলাম

নার্গিসকে লেখা কাজী নজরুল ইসলাম এর দুর্লভ চিঠি

 

 

 

Please Share This Post in Your Social Media

One response to “নার্গিসকে লেখা কাজী নজরুল ইসলাম এর দুর্লভ চিঠি”

  1. […] অবশ্যই সেদ্ধ করে নিতে হবে। পড়ুন>> নার্গিস কে লেখা কাজী নজরুল ইসলাম এর দু… ৫.আপেল:প্রবাদে আছে- আপনি যদি প্রতিদিন […]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর















error: Content is protected !!