ঢাকা ১২:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পরিবেশ সচেতন আগামী প্রজন্ম গড়ার অঙ্গীকারে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে শেষ হলো গ্রিন জেনেসিস ২০২৬ গ্যাস সরবরাহ সংকট: যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি আমদানির পথে কাতার দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলকে হারিয়ে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ঘর ছাড়ছে দৌলতপুরের বানভাসি মানুষ সুন্দরগঞ্জে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তশিলদারের অনিয়মের বিরুদ্ধে ইউএনও ও জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ দেশে ইলিশের ঘাটতি: প্রথমবারের মতো ভারত থেকে আমদানি রাণীশংকৈলে এসিল্যান্ডের বদলি ঠেকাতে রাজপথে জনতা মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা: সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান ব্রিকস নেতাদের পুলিশের পাঁচ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে নতুন কর্মস্থলে বদলি ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত ‘নয়াদিল্লি ঘোষণা

লাভজনক পদ্ধতিতে লাউ চাষ

সৃষ্টি কৃষি ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:৪১:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১৩৮৩ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

লাউ একটি উৎকৃষ্ট সবজী। সুস্বাদু সবজী গুলোর মধ্যে অন্যতম। লাউ এর পাতা ও ডগা একটি উৎকৃষ্ট শাক। লাউ  শাকের চাহিদা প্রচুর।

লাউ এর পুষ্টিমান: লাউ এ ১৭ ধরনের এমাইনো এসিড,ভিটামিন সি,রাইবোফ্লাভিন,জিংক,লৌহ,ম্যানিজ ও ৯৬% পানি রয়েছে।ফ্যাট ও কোলস্টেরল নেই বলা যায়।

 

জেনে নিন  >> বায়োফ্লক প্রযুক্তিতে মাছ চাষ

জাত: স্থানীয় জাতের  ছাড়া লাউ উফসী জাতের বারী লাউ-১,২,৩,৪ ও ৫ বেশ ভালো। হাইব্রিড জাতের লাউ চাষ করলে ফলন অনেক বেশী পাওয়া যায়। হাইব্রিড জাত গুলোর,চিশতি,নবাব,যমুনা, মম,ময়না গ্রীন ,ডানিয়া ম্যাজিক,নন্দিনী ও সুন্দরী এই গুলো বেশ ভালো।

জমিঃ বাংলাদেশের সব এলাকা লাউ  চাষের উপযোগী।দোঁআশ পলি দো-আশ মাটি লাউ চাষের জন্য বেশী উপযোগী। লাউ চাষের জন্য মাটির কাঙ্কিত মান  পি এইচ ৫.৫ থেকে ৬.৭ এবং তাপমাত্রা ২৫সেঃ থেকে ৩০0 সেঃ।

 

বীজ বপনের সময়ঃ সারা বছরই লাউ চাষ করা যায়।তবে ভাদ্র- আশ্বিন মাস লাউ বপনের উপযুক্ত সময়।

বীজের পরিমানঃ প্রতি শতাংশে ১০-১৫ গ্রাম এবং প্রতি একরে ১.২৫ কেজি থেকে ১.৫০ কেজি। তবে চারা শেডে(পলি ব্যাগে) তৈরী করলে বীজের পরিমান অনেক কম লাগে।

 

 বীজ বপন পদ্ধতিঃ লাউ বীজ সরাসরি বেডে বপন করা যায়। তবে শেডে চারা তৈরী করলে উৎপাদন খরচ কম হয়। বীজ বপনের পূর্বে বীজ রোদে  ১-২ ঘন্টা  রেখে ঠান্ডা করার পর ১২-১৫ ঘন্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে।

এতে অঙ্কুরোদগম দ্রুততর হয়।সারি থেকে সারি ৫ ফুট এবং চারা থেকে চারার দুরত্ব ৩ ফুট। নিদৃষ্ট দুরত্বে ২টি বীজ বপন করতে হবে।চারা একটু বড় হলে সুস্থ একটি চারা রেখে অন্যটি তুলে ফেলতে হবে।

প্যাকেট এর চারা হলে চারা ২-৩ ইঞ্চি লম্বা (চারার বয়স ১৫-২০ দিন) হলে নিদৃষ্ট দুরত্বে একটি সবল চারা রোপন করতে হবে।

 

জেনে রাখা খুবই জরুরী >> ফেসবুক-ইউটিউবে যেসব বিষয় বিপদের কারণ হতে পারে

তৈরী সার প্রয়োগঃভালো ভাবে জমি চাষ করে রোদে শুকানোর সার প্রয়োগ করতে হবে।

(প্রতি শতাংশে সার প্রয়োগ)

সার জমি তৈরীর সময় শেষ চাষের সময় প্রথম উপরী প্রয়োগ ২য় উপরী প্রয়োগ ৩য় উপরী প্রয়োগ
গোবর ৫০ কেজি
ইউরিয়া ২০০ গ্রাম ২০০ গ্রাম ২০০ গ্রাম ২০০ গ্রাম
টিএসপি ৮০০ গ্রাম
এমওপি ২০০ গ্রাম ২০০ গ্রাম ২০০ গ্রাম ২০০ গ্রাম
জিপসাম ৪০০ গ্রাম
জিংক ৫০ গ্রাম
বোরণ ৫০ গ্রাম

গাছের আকার ভালো না হলে ২য় ও ৩য় উপরী সার প্রয়োগের সময় প্রতি শতাংশে ২০০ গ্রাম ডিএপি প্রয়োগ করতে হবে।

সংগ্রহ ফলনঃ বীজ বপনের ৬০-৭০ দিন পর ফসল সংগ্রহ শুরু হয়।প্রতি একরে প্রায় ১১-১২ টন লাউ পাওয়া যায়।

 

পোকামাকড় বলাই দমনঃ লাউ চারা গজানোর পর থেকে নিয়মিত ম্যানকোজেব জাতীয় ছত্রাক নাশক স্প্রে করতে হবে। লাউ পোকা দ্বারা আক্রান্ত হলে সাইপারমেথ্রিন গ্রুপের কীটনাশক স্প্রে করতে হরে।ফল ছিদ্রকারী পোকার জন্য বিষটোপ ব্যবহার করতে হবে।

নিয়মিত বালাই নাশক ব্যবহার ছত্রাক দ্বারা সহজে আক্রান্ত হবে না।ফলের সাইজ ছোট ও ফলন কম হলে সলুবর বোরণ ও  জৈব উদ্দীপক হরমোন( জিবরেলিক এসিড, নাইট্রো বেনজিন ইত্যাদি) ১৫ দিন পর পর ৩-৪ বার ব্যবহার করতে হবে।

 

পরবর্তী পরিচর্যাঃ চারা মাঁচায় উঠার পযর্ন্ত পার্শ্ব কুশি ও মরা পাতা ছাঁটাই করতে হবে।নিড়ানী দিয়ে হবে।প্রয়োজনে সেচ ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখতে হবে।  আগাছা দমন করতে হবে।মাছি পোকা দ্বারা আক্রান্ত ফল সংগ্রহ করে মাটিতে পুতে ফেলতে হবে।

 

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য

লাভজনক পদ্ধতিতে লাউ চাষ

আপডেট সময় : ০৪:৪১:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০

লাউ একটি উৎকৃষ্ট সবজী। সুস্বাদু সবজী গুলোর মধ্যে অন্যতম। লাউ এর পাতা ও ডগা একটি উৎকৃষ্ট শাক। লাউ  শাকের চাহিদা প্রচুর।

লাউ এর পুষ্টিমান: লাউ এ ১৭ ধরনের এমাইনো এসিড,ভিটামিন সি,রাইবোফ্লাভিন,জিংক,লৌহ,ম্যানিজ ও ৯৬% পানি রয়েছে।ফ্যাট ও কোলস্টেরল নেই বলা যায়।

 

জেনে নিন  >> বায়োফ্লক প্রযুক্তিতে মাছ চাষ

জাত: স্থানীয় জাতের  ছাড়া লাউ উফসী জাতের বারী লাউ-১,২,৩,৪ ও ৫ বেশ ভালো। হাইব্রিড জাতের লাউ চাষ করলে ফলন অনেক বেশী পাওয়া যায়। হাইব্রিড জাত গুলোর,চিশতি,নবাব,যমুনা, মম,ময়না গ্রীন ,ডানিয়া ম্যাজিক,নন্দিনী ও সুন্দরী এই গুলো বেশ ভালো।

জমিঃ বাংলাদেশের সব এলাকা লাউ  চাষের উপযোগী।দোঁআশ পলি দো-আশ মাটি লাউ চাষের জন্য বেশী উপযোগী। লাউ চাষের জন্য মাটির কাঙ্কিত মান  পি এইচ ৫.৫ থেকে ৬.৭ এবং তাপমাত্রা ২৫সেঃ থেকে ৩০0 সেঃ।

 

বীজ বপনের সময়ঃ সারা বছরই লাউ চাষ করা যায়।তবে ভাদ্র- আশ্বিন মাস লাউ বপনের উপযুক্ত সময়।

বীজের পরিমানঃ প্রতি শতাংশে ১০-১৫ গ্রাম এবং প্রতি একরে ১.২৫ কেজি থেকে ১.৫০ কেজি। তবে চারা শেডে(পলি ব্যাগে) তৈরী করলে বীজের পরিমান অনেক কম লাগে।

 

 বীজ বপন পদ্ধতিঃ লাউ বীজ সরাসরি বেডে বপন করা যায়। তবে শেডে চারা তৈরী করলে উৎপাদন খরচ কম হয়। বীজ বপনের পূর্বে বীজ রোদে  ১-২ ঘন্টা  রেখে ঠান্ডা করার পর ১২-১৫ ঘন্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে।

এতে অঙ্কুরোদগম দ্রুততর হয়।সারি থেকে সারি ৫ ফুট এবং চারা থেকে চারার দুরত্ব ৩ ফুট। নিদৃষ্ট দুরত্বে ২টি বীজ বপন করতে হবে।চারা একটু বড় হলে সুস্থ একটি চারা রেখে অন্যটি তুলে ফেলতে হবে।

প্যাকেট এর চারা হলে চারা ২-৩ ইঞ্চি লম্বা (চারার বয়স ১৫-২০ দিন) হলে নিদৃষ্ট দুরত্বে একটি সবল চারা রোপন করতে হবে।

 

জেনে রাখা খুবই জরুরী >> ফেসবুক-ইউটিউবে যেসব বিষয় বিপদের কারণ হতে পারে

তৈরী সার প্রয়োগঃভালো ভাবে জমি চাষ করে রোদে শুকানোর সার প্রয়োগ করতে হবে।

(প্রতি শতাংশে সার প্রয়োগ)

সার জমি তৈরীর সময় শেষ চাষের সময় প্রথম উপরী প্রয়োগ ২য় উপরী প্রয়োগ ৩য় উপরী প্রয়োগ
গোবর ৫০ কেজি
ইউরিয়া ২০০ গ্রাম ২০০ গ্রাম ২০০ গ্রাম ২০০ গ্রাম
টিএসপি ৮০০ গ্রাম
এমওপি ২০০ গ্রাম ২০০ গ্রাম ২০০ গ্রাম ২০০ গ্রাম
জিপসাম ৪০০ গ্রাম
জিংক ৫০ গ্রাম
বোরণ ৫০ গ্রাম

গাছের আকার ভালো না হলে ২য় ও ৩য় উপরী সার প্রয়োগের সময় প্রতি শতাংশে ২০০ গ্রাম ডিএপি প্রয়োগ করতে হবে।

সংগ্রহ ফলনঃ বীজ বপনের ৬০-৭০ দিন পর ফসল সংগ্রহ শুরু হয়।প্রতি একরে প্রায় ১১-১২ টন লাউ পাওয়া যায়।

 

পোকামাকড় বলাই দমনঃ লাউ চারা গজানোর পর থেকে নিয়মিত ম্যানকোজেব জাতীয় ছত্রাক নাশক স্প্রে করতে হবে। লাউ পোকা দ্বারা আক্রান্ত হলে সাইপারমেথ্রিন গ্রুপের কীটনাশক স্প্রে করতে হরে।ফল ছিদ্রকারী পোকার জন্য বিষটোপ ব্যবহার করতে হবে।

নিয়মিত বালাই নাশক ব্যবহার ছত্রাক দ্বারা সহজে আক্রান্ত হবে না।ফলের সাইজ ছোট ও ফলন কম হলে সলুবর বোরণ ও  জৈব উদ্দীপক হরমোন( জিবরেলিক এসিড, নাইট্রো বেনজিন ইত্যাদি) ১৫ দিন পর পর ৩-৪ বার ব্যবহার করতে হবে।

 

পরবর্তী পরিচর্যাঃ চারা মাঁচায় উঠার পযর্ন্ত পার্শ্ব কুশি ও মরা পাতা ছাঁটাই করতে হবে।নিড়ানী দিয়ে হবে।প্রয়োজনে সেচ ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখতে হবে।  আগাছা দমন করতে হবে।মাছি পোকা দ্বারা আক্রান্ত ফল সংগ্রহ করে মাটিতে পুতে ফেলতে হবে।

 

 

 

Facebook Comments Box