ঢাকা ০৮:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত ‘নয়াদিল্লি ঘোষণা ২৫ হাজার বছর আগেও মাদক হিসেবে সুপারির ব্যবহার ছিল, বলছে নতুন গবেষণা নরসিংদীর শিবপুরে শীতলক্ষ্যা নদীতে নিখোঁজ চারজনের মধ্যে তিনজনের সন্ধান মিলেছে জ্বালানি সংকটে শিল্পখাত ধুঁকছে, সরকারের ব্যর্থতার সমালোচনা জামায়াত আমীরের ব্রিকসের বিবর্তন ও বর্তমান চ্যালেঞ্জ: ঐকমত্যে পৌঁছানোই এখন বড় বাধা পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে প্রাণ হারানো সীতাকুণ্ডের রমজান আলীর মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি নিজ গ্রামে দাফন বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের প্রত্যেকেই বর্তমান সরকারের অংশ: রুহুল কবির রিজভী পিরোজপুরে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি: হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৯৩ রোগী পাবনায় আব্দুল বারেক মৃত্যুর ঘটনা মামলার পলাতক দম্পতি আটক বাব এল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিল হুতিরা, ট্রাম্পের কাছে সৌদির অনুরোধ প্রত্যাখ্যান

তরমুজ চাষ পদ্ধতি

সৃষ্টি কৃষি ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:৫৯:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২১ ২২৮২ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

তরমুজ চাষ পদ্ধতি

পরিচিতি: তরমুজ একটি সুস্বাদু অর্থকরী ফসল। গরমের সময় এটি অত্যন্ত তৃপ্তিদায়ক ও তৃষ্ণা নিবারক। আমাদের দেশে যে সব উন্নত মানের তরমুজ পাওয়া যায় তা বিদেশ থেকে আমদানীকৃত শংকর জাতের বীজ থেকে চাষ করা হয়।

 

 

জলবায়ু ও মাটি: শুষ্ক, উষ্ণ ও প্রচুর আলোযুক্ত স্থানে তরমুজ ভালো হয়। অধিক আর্দ্রতা তরমুজের জন্য ক্ষতিকর। তরমুজের খরা ও উষ্ণ তাপমাত্রা সহ্য করার ক্ষমতা খুব বেশি। উর্বর দোঁ-আশ ও বেলে দোঁ-আশ মাটিই তরমুজ চাষের জন্য সবচেয়ে ভালো।

 

জাত:আধুনিক জাতের মধ্যে টপইল্ড, গ্লোরী, তাইওয়ান, ওয়ার্লড কুইন, সুগার বেবী, চ্যাম্পিয়ন.কঙ্গো ইত্যাদি প্রধান।

 

বংশ বিস্তারঃ তরমুজের বংশ বিস্তার সাধারণত বীজ দ্বারাই করা হয়ে থাকে।

 

 

জমি তৈরিঃ প্রয়োজনমত চাষ ও মই দিয়ে জমি তৈরি করতে হবে। জমি তৈরির পর মাদা প্রস্তুত করতে হয়। মাদাতে সার প্রয়োগ করে চারা লাগানো উচিত।

 

 

বীজ বপন সময়ঃ বাংলাদেশে ফেব্রুয়ারী থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত আবহাওয়া তরমুজ চাষের উপযোগী। বীজ বোনার জন্য ফেব্রুয়ারী মাসের প্রথম পক্ষ সর্বোত্তম। আগাম ফসল পেতে হলে জানুয়ারি মাসে বীজ বুনে শীতের হাত থেকে কচি চারা রক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। এর জন্য পলি টানেল ব্যবহার করা যায়।

 

 

বীজের অংকুরোদগমনঃ শীতকালে খুব ঠান্ডা থাকলে বীজ ১২ ঘন্টা পানিতে ভিজিয়ে রেখে গোবরের মাদার ভিতরে কিম্বা মাটির পাত্রে রক্ষিত বালির ভিতরে রেখে দিলে ২-৩ দিনের মধ্যেই বীজ অংকুরিত হয়। বীজের অংকুর দেখা দিলেই বীজতলায় অথবা মাদায় স্থানান্তর করা ভালো।

 

বপন/রোপণ পদ্ধতিঃ
সাধারণত মাদায় সরাসরি বীজ বপন পদ্ধতি প্রচলিত থাকলেও চারা তৈরি করে মাদাতে চারা রোপণ করাই উত্তম।

 

 

বীজ বপনঃ সাধারণত প্রতি মাদায় ৪/৫ টি বীজ বপন করা হয়। বপনের ৮/১০ দিন আগে মাদা তৈরি করে মাটিতে সার মিশাতে হয় ।

দু’মিটার দূরে দূরে সারি করে প্রতি সারিতে দু’মিটার অন্তর মাদা করতে হয়। প্রতি মাদা ৫০ সেমিঃ প্রশস্থ ও ৩০ সেমিঃ গভীর হওয়া বাঞ্ছনীয়। চারা গজানোর পর প্রতি মাদায় দুটি করে চারা রেখে বাকিগুলো তুলে ফেলতে হবে।

 

 

 সব ফসলে সঠিক পরিমান সার প্রয়োগের জন্য FERTI  মোবাইল অ্যাপস ডাউন লোড করুন

ডাউন লোড লিংক>>> সব ফসলে সঠিক পরিমান সার প্রয়োগের পরিমান ও পদ্ধতি জানা যাবে মোবাইলেই

 

সার প্রয়োগ:

 

সারের নাম মোট প্রয়োগ মাদায় প্রয়োগ পরবর্তী পরিচর্যায় মাদায় প্রয়ো
চারা রোপণের ১৫ দিন পর ফুল আসার সময় ফল আসার সময়

ফল আসার ১৫ দিন পর

গোবর/ কম্পোস্ট ২০ টন সব
টি এস পি ১০০ কেজি সব
এম ও পি ৩৪০ কেজি ১০০ কেজি ৬০ কেজি ৬০ কেজি ৬০ কেজি ৬০ কেজি
ইউরিয়া ২৮০কেজি ১০০ কেজি ৬০ কেজি ৬০ কেজি ৬০ কেজি

 

 

চারা রোপণঃ বীজ বপনের চেয়ে তরমুজ চাষের জন্য চারা রোপণ করা উত্তম। এতে বীজের অপচয় কম হয়। চারা তৈরির জন্য ছোট ছোট পলিথিনের ব্যাগে বালি ও পচা গোবর সার ভর্তি করে প্রতি ব্যাগে একটি করে বীজ বপন করা হয়। ৩০-৩৫ দিন বয়সের ৫/৬ পাতা বিশিষ্ট একটি চারা মাদায় রোপণ করা হয়।

 

 

বীজের পরিমাণঃ প্রতি হেক্টরে ৮৫০-১০০০ গ্রাম বীজের প্রয়োজন হয়।

 

 

অন্তবর্তীকালীন পরিচর্যাঃ শুকনো মৌসুমে সেচ দেয়া খুব প্রয়োজন। গাছের গোড়ায় যাতে পানি জমে না থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। প্রতিটি গাছে ৩-৪ টির বেশি ফল রাখতে নাই। গাছের শাখার মাঝামাঝি গিটে যে ফল হয় সেটিই রাখতে হয়। চারটি শাখায় চারটি ফলই যথেষ্ট। এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে যে ৩০টি পাতার জন্য মাত্র একটি ফল রাখা উচিত।

 

 

পরাগায়ণঃ সকালবেলা স্ত্রী ও পুরুষ ফুল ফোটার সাথে সাথে স্ত্রী ফুলকে পুরুষ ফুল দিয়ে পরাগায়িত করে দিলে ফলন ভালো হয়।

 

 

পোকামাকড়

পাতার বিটল পোকাঃ প্রথম দিকে পোকাগুলোর সংখ্যা যখন কম থাকে তখন পোকা, ডিম ও বাচ্চা ধরে নষ্ট করে ফেলতে হবে। পোকার সংখ্যা বেশি হলে রিপকর্ড/সুমিথিয়ন/ম্যালাথিয়ন ৫৭ ইসি ১ মিলি/লিটার মাত্রায় সপ্তাহান্তে স্প্রে করতে হবে।

জেনে নিন>>  বেগুন চাষ : জেনে নিন লাভজনক উপায়ে বেগুন চাষ পদ্ধতি

জাব পোকাঃ এ পোকা গাছের কচি কান্ড, ডগা এবং পাতার রস শুষে খেয়ে ক্ষতি করে। এ পোকা দমনের জন্যে সুমিথিয়ন/ম্যালাথিয়ন ৫৭ ইসি ২ মিলি/লিটার মাত্রায় স্প্রে করতে হবে।

 

 

মাজরা পোকাঃ স্ত্রী পোকা ফলের খোসার নিচে ডিম পাড়ে। ডিম ফুটে কীড়াগুলো বের হয়ে ফল খেয়ে নষ্ট করে ফেলে এবং ফলগুলো সাধারণত পচে যায়। এ পোকা দমনের জন্যে রিপকর্ড/সুমিথিয়ন/ম্যালাথিয়ন ৫৭ ইসি ১ মিলি/লিটার মাত্রায় স্প্রে করতে হবে।

 

 

রোগবালাই
কান্ড পচা রোগঃ এ রোগের আক্রমণে তরমুজ গাছের গোড়ার নিকটের কান্ড পচে গাছ মরে যায়। প্রতিকারের জন্য ২.৫ গ্রাম ডাইথেন এম-৪৫ প্রতি ১ লিটার পানিতে মিশিয়ে ১০-১৫ দিন পর পর গাছে স্প্রে করতে হবে।

 

 

এ্যানথ্রাকনোজঃ এ রোগের আক্রমণে পাতা, পাতার বোঁটা, কান্ড এবং ফলে বাদামি থেকে কালচে দাগ দেখা যায়। প্রতিকারের জন্য ২.৫ গ্রাম ডাইথেন এম-৪৫ প্রতি ১ লিটার পানিতে মিশিয়ে ১০-১৫ দিন পর পর গাছে স্প্রে করতে হবে।

 

ফিউজেরিয়াম উইল্ট রোগঃ এ রোগের আক্রমণে গাছ ঢলে পড়ে মারা যায়। নিস্কাশনের সুব্যবস্থা করা হলে এ রোগের প্রকোপ কম থাকে। রোগাক্রান্ত গাছ তুলে পুড়িয়ে ফেলতে হবে।

জেনে নিন>> পাট চাষ  পদ্ধতি

 

 

ফসল সংগ্রহঃ জাত ও আবহাওয়ার উপর নির্ভর করে তরমুজ পাকে। সাধারণত ফল পাকতে বীজ বোনার পর থেকে ৮০-১১০ দিন সময় লাগে। তরমুজের ফল পাকার সঠিক সময় নির্ণয় করা একটু কঠিন।কারণ অধিকাংশ ফলে পাকার সময় কোনো বাহ্যিক লক্ষণ দেখা যায় না। তবে নিচের লক্ষণগুলো দেখে তরমুজ পাকা কিনা তা অনেকটা অনুমান করা যায়।

 

 

ক) ফলের বোঁটার সঙ্গে যে আকর্শি থাকে তা শুকিয়ে বাদামি রং হয়।
খ) খোসার উপরে সূক্ষ্ণ লোমগুলো মরে পড়ে গিয়ে তরমুজের খোসা চকচকে হয়।
গ) তরমুজের যে অংশটি মাটির উপর লেগে থাকে তা সবুজ থেকে উজ্জ্বল হলুদ রংয়ের হয়ে উঠে।

 

 

ঘ) তরমুজের শাঁস লাল টকটকে হয়।
ঙ) আঙ্গুল দিয়ে টোকা দিলে যদি ড্যাব ড্যাব শব্দ হয় তবে বুঝতে হবে যে ফল পরিপক্কতা লাভ করেছে। অপরিপক্ক ফলের বেলায় শব্দ হবে অনেকটা ধাতবীয়।

 

 

ফলনঃ সযত্নে চাষ করলে ভালো জাতের তরমুজ থেকে প্রতি হেক্টরে ৫০-৬০ টন ফলন পাওয়া যায়।

 

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

4 thoughts on “তরমুজ চাষ পদ্ধতি

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

তরমুজ চাষ পদ্ধতি

আপডেট সময় : ০৪:৫৯:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২১

তরমুজ চাষ পদ্ধতি

পরিচিতি: তরমুজ একটি সুস্বাদু অর্থকরী ফসল। গরমের সময় এটি অত্যন্ত তৃপ্তিদায়ক ও তৃষ্ণা নিবারক। আমাদের দেশে যে সব উন্নত মানের তরমুজ পাওয়া যায় তা বিদেশ থেকে আমদানীকৃত শংকর জাতের বীজ থেকে চাষ করা হয়।

 

 

জলবায়ু ও মাটি: শুষ্ক, উষ্ণ ও প্রচুর আলোযুক্ত স্থানে তরমুজ ভালো হয়। অধিক আর্দ্রতা তরমুজের জন্য ক্ষতিকর। তরমুজের খরা ও উষ্ণ তাপমাত্রা সহ্য করার ক্ষমতা খুব বেশি। উর্বর দোঁ-আশ ও বেলে দোঁ-আশ মাটিই তরমুজ চাষের জন্য সবচেয়ে ভালো।

 

জাত:আধুনিক জাতের মধ্যে টপইল্ড, গ্লোরী, তাইওয়ান, ওয়ার্লড কুইন, সুগার বেবী, চ্যাম্পিয়ন.কঙ্গো ইত্যাদি প্রধান।

 

বংশ বিস্তারঃ তরমুজের বংশ বিস্তার সাধারণত বীজ দ্বারাই করা হয়ে থাকে।

 

 

জমি তৈরিঃ প্রয়োজনমত চাষ ও মই দিয়ে জমি তৈরি করতে হবে। জমি তৈরির পর মাদা প্রস্তুত করতে হয়। মাদাতে সার প্রয়োগ করে চারা লাগানো উচিত।

 

 

বীজ বপন সময়ঃ বাংলাদেশে ফেব্রুয়ারী থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত আবহাওয়া তরমুজ চাষের উপযোগী। বীজ বোনার জন্য ফেব্রুয়ারী মাসের প্রথম পক্ষ সর্বোত্তম। আগাম ফসল পেতে হলে জানুয়ারি মাসে বীজ বুনে শীতের হাত থেকে কচি চারা রক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। এর জন্য পলি টানেল ব্যবহার করা যায়।

 

 

বীজের অংকুরোদগমনঃ শীতকালে খুব ঠান্ডা থাকলে বীজ ১২ ঘন্টা পানিতে ভিজিয়ে রেখে গোবরের মাদার ভিতরে কিম্বা মাটির পাত্রে রক্ষিত বালির ভিতরে রেখে দিলে ২-৩ দিনের মধ্যেই বীজ অংকুরিত হয়। বীজের অংকুর দেখা দিলেই বীজতলায় অথবা মাদায় স্থানান্তর করা ভালো।

 

বপন/রোপণ পদ্ধতিঃ
সাধারণত মাদায় সরাসরি বীজ বপন পদ্ধতি প্রচলিত থাকলেও চারা তৈরি করে মাদাতে চারা রোপণ করাই উত্তম।

 

 

বীজ বপনঃ সাধারণত প্রতি মাদায় ৪/৫ টি বীজ বপন করা হয়। বপনের ৮/১০ দিন আগে মাদা তৈরি করে মাটিতে সার মিশাতে হয় ।

দু’মিটার দূরে দূরে সারি করে প্রতি সারিতে দু’মিটার অন্তর মাদা করতে হয়। প্রতি মাদা ৫০ সেমিঃ প্রশস্থ ও ৩০ সেমিঃ গভীর হওয়া বাঞ্ছনীয়। চারা গজানোর পর প্রতি মাদায় দুটি করে চারা রেখে বাকিগুলো তুলে ফেলতে হবে।

 

 

 সব ফসলে সঠিক পরিমান সার প্রয়োগের জন্য FERTI  মোবাইল অ্যাপস ডাউন লোড করুন

ডাউন লোড লিংক>>> সব ফসলে সঠিক পরিমান সার প্রয়োগের পরিমান ও পদ্ধতি জানা যাবে মোবাইলেই

 

সার প্রয়োগ:

 

সারের নাম মোট প্রয়োগ মাদায় প্রয়োগ পরবর্তী পরিচর্যায় মাদায় প্রয়ো
চারা রোপণের ১৫ দিন পর ফুল আসার সময় ফল আসার সময়

ফল আসার ১৫ দিন পর

গোবর/ কম্পোস্ট ২০ টন সব
টি এস পি ১০০ কেজি সব
এম ও পি ৩৪০ কেজি ১০০ কেজি ৬০ কেজি ৬০ কেজি ৬০ কেজি ৬০ কেজি
ইউরিয়া ২৮০কেজি ১০০ কেজি ৬০ কেজি ৬০ কেজি ৬০ কেজি

 

 

চারা রোপণঃ বীজ বপনের চেয়ে তরমুজ চাষের জন্য চারা রোপণ করা উত্তম। এতে বীজের অপচয় কম হয়। চারা তৈরির জন্য ছোট ছোট পলিথিনের ব্যাগে বালি ও পচা গোবর সার ভর্তি করে প্রতি ব্যাগে একটি করে বীজ বপন করা হয়। ৩০-৩৫ দিন বয়সের ৫/৬ পাতা বিশিষ্ট একটি চারা মাদায় রোপণ করা হয়।

 

 

বীজের পরিমাণঃ প্রতি হেক্টরে ৮৫০-১০০০ গ্রাম বীজের প্রয়োজন হয়।

 

 

অন্তবর্তীকালীন পরিচর্যাঃ শুকনো মৌসুমে সেচ দেয়া খুব প্রয়োজন। গাছের গোড়ায় যাতে পানি জমে না থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। প্রতিটি গাছে ৩-৪ টির বেশি ফল রাখতে নাই। গাছের শাখার মাঝামাঝি গিটে যে ফল হয় সেটিই রাখতে হয়। চারটি শাখায় চারটি ফলই যথেষ্ট। এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে যে ৩০টি পাতার জন্য মাত্র একটি ফল রাখা উচিত।

 

 

পরাগায়ণঃ সকালবেলা স্ত্রী ও পুরুষ ফুল ফোটার সাথে সাথে স্ত্রী ফুলকে পুরুষ ফুল দিয়ে পরাগায়িত করে দিলে ফলন ভালো হয়।

 

 

পোকামাকড়

পাতার বিটল পোকাঃ প্রথম দিকে পোকাগুলোর সংখ্যা যখন কম থাকে তখন পোকা, ডিম ও বাচ্চা ধরে নষ্ট করে ফেলতে হবে। পোকার সংখ্যা বেশি হলে রিপকর্ড/সুমিথিয়ন/ম্যালাথিয়ন ৫৭ ইসি ১ মিলি/লিটার মাত্রায় সপ্তাহান্তে স্প্রে করতে হবে।

জেনে নিন>>  বেগুন চাষ : জেনে নিন লাভজনক উপায়ে বেগুন চাষ পদ্ধতি

জাব পোকাঃ এ পোকা গাছের কচি কান্ড, ডগা এবং পাতার রস শুষে খেয়ে ক্ষতি করে। এ পোকা দমনের জন্যে সুমিথিয়ন/ম্যালাথিয়ন ৫৭ ইসি ২ মিলি/লিটার মাত্রায় স্প্রে করতে হবে।

 

 

মাজরা পোকাঃ স্ত্রী পোকা ফলের খোসার নিচে ডিম পাড়ে। ডিম ফুটে কীড়াগুলো বের হয়ে ফল খেয়ে নষ্ট করে ফেলে এবং ফলগুলো সাধারণত পচে যায়। এ পোকা দমনের জন্যে রিপকর্ড/সুমিথিয়ন/ম্যালাথিয়ন ৫৭ ইসি ১ মিলি/লিটার মাত্রায় স্প্রে করতে হবে।

 

 

রোগবালাই
কান্ড পচা রোগঃ এ রোগের আক্রমণে তরমুজ গাছের গোড়ার নিকটের কান্ড পচে গাছ মরে যায়। প্রতিকারের জন্য ২.৫ গ্রাম ডাইথেন এম-৪৫ প্রতি ১ লিটার পানিতে মিশিয়ে ১০-১৫ দিন পর পর গাছে স্প্রে করতে হবে।

 

 

এ্যানথ্রাকনোজঃ এ রোগের আক্রমণে পাতা, পাতার বোঁটা, কান্ড এবং ফলে বাদামি থেকে কালচে দাগ দেখা যায়। প্রতিকারের জন্য ২.৫ গ্রাম ডাইথেন এম-৪৫ প্রতি ১ লিটার পানিতে মিশিয়ে ১০-১৫ দিন পর পর গাছে স্প্রে করতে হবে।

 

ফিউজেরিয়াম উইল্ট রোগঃ এ রোগের আক্রমণে গাছ ঢলে পড়ে মারা যায়। নিস্কাশনের সুব্যবস্থা করা হলে এ রোগের প্রকোপ কম থাকে। রোগাক্রান্ত গাছ তুলে পুড়িয়ে ফেলতে হবে।

জেনে নিন>> পাট চাষ  পদ্ধতি

 

 

ফসল সংগ্রহঃ জাত ও আবহাওয়ার উপর নির্ভর করে তরমুজ পাকে। সাধারণত ফল পাকতে বীজ বোনার পর থেকে ৮০-১১০ দিন সময় লাগে। তরমুজের ফল পাকার সঠিক সময় নির্ণয় করা একটু কঠিন।কারণ অধিকাংশ ফলে পাকার সময় কোনো বাহ্যিক লক্ষণ দেখা যায় না। তবে নিচের লক্ষণগুলো দেখে তরমুজ পাকা কিনা তা অনেকটা অনুমান করা যায়।

 

 

ক) ফলের বোঁটার সঙ্গে যে আকর্শি থাকে তা শুকিয়ে বাদামি রং হয়।
খ) খোসার উপরে সূক্ষ্ণ লোমগুলো মরে পড়ে গিয়ে তরমুজের খোসা চকচকে হয়।
গ) তরমুজের যে অংশটি মাটির উপর লেগে থাকে তা সবুজ থেকে উজ্জ্বল হলুদ রংয়ের হয়ে উঠে।

 

 

ঘ) তরমুজের শাঁস লাল টকটকে হয়।
ঙ) আঙ্গুল দিয়ে টোকা দিলে যদি ড্যাব ড্যাব শব্দ হয় তবে বুঝতে হবে যে ফল পরিপক্কতা লাভ করেছে। অপরিপক্ক ফলের বেলায় শব্দ হবে অনেকটা ধাতবীয়।

 

 

ফলনঃ সযত্নে চাষ করলে ভালো জাতের তরমুজ থেকে প্রতি হেক্টরে ৫০-৬০ টন ফলন পাওয়া যায়।

 

 

 

Facebook Comments Box