ঢাকা ১১:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গ্যাস সরবরাহ সংকট: যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি আমদানির পথে কাতার দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলকে হারিয়ে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ঘর ছাড়ছে দৌলতপুরের বানভাসি মানুষ সুন্দরগঞ্জে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তশিলদারের অনিয়মের বিরুদ্ধে ইউএনও ও জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ দেশে ইলিশের ঘাটতি: প্রথমবারের মতো ভারত থেকে আমদানি রাণীশংকৈলে এসিল্যান্ডের বদলি ঠেকাতে রাজপথে জনতা মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা: সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান ব্রিকস নেতাদের পুলিশের পাঁচ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে নতুন কর্মস্থলে বদলি ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত ‘নয়াদিল্লি ঘোষণা ২৫ হাজার বছর আগেও মাদক হিসেবে সুপারির ব্যবহার ছিল, বলছে নতুন গবেষণা

সূর্যমুখী চাষ করে অধিক লাভবান হউন

কৃষিবিদ আসাদুজ্জামান, অ‌তি‌রিক্ত উপপ‌রিচালক (শস্য)
  • আপডেট সময় : ০৩:৩৫:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ ৬৩০৪ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সূর্যমুখী মূলত তেল জাতীয় ফসল।অন্যান্য তেল জাতীয় ফসল চাষ অপেক্ষা সূর্যমুখী চাষ অধিক লাভজনক।বাংলাদেশের কৃষকরা ১৯৭৫ থেকে সূর্যমুখীর চাষ করে আসছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সূর্যমুখীর চাষ হয়ে থাকে। সারা পৃথিবীতেই  সূর্যমুখীর তেল প্রচুর ব্যবহার করা হয়।

পুষ্টিমূল্য/উপাদান :সূর্যমুখীর বীজে ৪০-৪৫ ভাগ উপকারী লিনোলিক এসিড থাকে এবং ক্ষতিকর কোনো ইরোসিক এসিড থাকেন না। এটি একটি উন্নতমানের তেল।
ভেষজগুণ : হৃদরোগীদের জন্য সূর্যমুখীর তেল খুবই উপকারী।
ব্যবহার :সূর্যমুখীর খৈল গরু ও মহিষের উৎকৃষ্টমানের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর বীজ ছাড়ানোর পর মাথা গুলো গরুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায়। গাছ ও পুষ্পস্তবক জ্বালানী হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
উপযুক্ত সময়ঃ সূর্যমুখীর চাষ সারা বছর করা গেলেও অগ্রহায়ণ মাসে (মধ্য নভেম্বর থেকে মধ্য ডিসেম্বর) চাষ করলে ভালো ফলন পাওয়া যায়। খরিপ-১ মৌসুমে অর্থাৎ জ্যৈষ্ঠ মাসেও (মধ্য এপ্রিল থেকে মধ্য মে মাসে) সূর্যমুখীর চাষ করা যায়।

জেনে নিন >> লাভ জনক পদ্ধতিতে বাধা কফি চাষ

উপযুক্ত জমি ও মাটি : সূর্যমুখী সাধারণত সব মাটিতেই জন্মে। তবে দো-আঁশ মাটি সবচেয়ে বেশী উপযোগী।
জমি তৈরিঃ সূর্যমুখী চাষের জমি গভীর ভাবে চাষ দিতে হবে। ৪-৫ বার আড়াআড়ি ভাবে চাষ ও মই দিয়ে মাটি ভালোভাবে ঝুরঝুরে করে নিতে হবে।লবণাক্ত জমিতেও সূর্যমুখীর ভালো ফলন পাওয়া যায়।

সূর্যমুখী চাষের জন্য জাত নির্বাচনঃ এ পর্যন্ত বারি কর্তৃক ২টি জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। যথা (১) কিরণী (ডিএস-১) এবং বারি সুর্যমুখী-২।সূর্যমুখীর কিরণী (ডিএস-2)

১.কিরণী:১৯৯২ সালে জাতটির অনুমোদন দেয়া হয়। বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জাতটি উদ্ভাবন করা হয়। জাতটির কান্ডের ব্যাস ১.৫-২.০ সে.মি.। পরিপক্ক পুষ্প মঞ্জুরী বা শাখার ব্যাস ১২-১৫ সে.মি.। প্রতি মাথায় বীজের সংখ্যা ৪০০-৬০০। বীজের রং কালো। ১০০০ বীজের ওজন ৬৮-৭২ গ্রাম। বীজে তেলের পরিমাণ শতকরা ৪২-৪৪ ভাগ। জাতটি মোটামুটি অলটারনারিয়া ব্রাইট রোগ সহনশীল। জীবনকাল ৯০-১১০ দিন। শতক প্রতি ফলন ৬.৫ হতে ৭.৫ কেজি।
২.বারি সূর্যমুখী-২ : গাছের কান্ডের ব্যাস ২.০-২.৪ সে.মি.। পরিপক্ক পুষ্পমঞ্জুরী বা শাখার ব্যাস ১৫-১৮ সে.মি.। বীজের রং কালো। ১০০০ বীজের ওজন ৬৫-৭০ গ্রাম। প্রতি মাথায় বীজের সংখ্যা ৪৫০-৬৫০। তেলের পরিমাণ শতকরা ৪২-৪৪ ভাগ। জীবনকাল রবি মৌসুমে ৯৫-১০০ দিন এবং খরিফ মৌসুমে ৯০-৯৫। দিন।  হেক্টর প্রতি ফলন রবি মৌসুমে ৮ হতে ১০ কেজি এবং খরিপ মৌসুমে ৬.৫ হতে ৭.৫ কেজি।
সূর্যমুখীর বীজ বপন পদ্ধতিঃ সূর্যমুখীর বীজ সারি করে লাগাতে হয়। এক সারি থেকে অন্য সারির দূরত্ব ৫০ সে. মি. করে রাখতে হবে এবং এক গাছ থেকে অন্য গাছের দূরত্ব ২৫ সে. মি. করে রাখতে হবে। এভাবে বীজ বপন করলে শতক প্রতি ৩৫০-৪০০ গ্রাম বীজ লাগবে।
সার প্রয়োগঃ শতক প্রতি ইউরিয়া ৩৬৫ গ্রাম, টিএসপি ৭০০ গ্রাম, এমপি ৩৬৫ গ্রাম ,জিপসাম ৫০০ গ্রাম ১৫০ কেজি, জিংক সালফেট, ৪০ গ্রাম, বরিক এসিড ৪৫ গ্রাম,, এবং ৩৫ গ্রাম ম্যাগনেসিয়াম সালফেট জমি চাষ দেয়ার সময় ছিটিয়ে মাটির সাথে ভালোভাবে মিশিয়ে দিতে হবে।চারা গজানোর ২০-২৫ দিন পর ১৮০ গ্রাম, ইউরিয়া সার প্রয়োগ করতে হবে এবং ৪০-৪৫ দিন পর ফুল ফোঁটার আগে আরও ১৮৫ গ্রাম, ইউরিয়া সার প্রয়োগ করতে হবে।

সেচ ও আগাছা ব্যবস্থাপনা :সূর্যমুখী ফসলের ফলন বেশী পেতে হলে কয়েকবার সেচ দেয়া প্রয়োজন। প্রথম সেচ বীজ বপনের ৩০ দিন পর (গাছে ফুল আসার আগে), দ্বিতীয় সেচ বীজ বপনের ৫০ দিন পর (পুষ্পস্তবক তৈরির সময়) এবং তৃতীয় সেচ বীজ বপনের ৭০ দিন পর (বীজ পুষ্ট হবার আগে) সেচ দেয়া দরকার।সূর্যমুখীর জমি সর্বদা আগাছামুক্ত রাখতে হবে। জমিতে আগাছা দেখা দিলে উহা তুলে ফেলতে হবে।
পোকামাকড় ব্যবস্থাপনা :
পোকার নাম : বিছা পোকা:

ভূমিকা : ছোট অবস্থায় এরা দলবদ্ধভাবে থাকে।
পোকা চেনার উপায় : কীড়া বা বিছা হলুদ রংয়ের এবং গায়ে কাঁটা থাকে।
ক্ষতির নমুনা : এরা সাধারণত গাছের পাতায় আক্রমণ করে। এ পোকার কীড়া দলবদ্ধভাবে থেকে পাতার সবুজ অংশ খেয়ে পাতাকে পাতলা সাদা পর্দার মতো করে ফেলে।
অনুকূল পরিবেশ :উষ্ণ আবহাওয়া।
ব্যবস্থাপনা : বিছা পোকা দেখার সংগে সংগে গাছ থেকে পোকাসহ পাতা সংগ্রহ করে পোকা মেরে ফেলতে হবে। সেচ নালায় কেরোসিন মিশ্রিত পানি থাকলে কীড়া পানিতে পড়ে মারা যায়।ক্লোরোপাইরিফস,সাইপারমেথ্রিন,ল্যামড়া সাইহ্যালোথিন গ্রুপের কীটনাশক নির্দেশিত মাত্রায় বিকালে জমিতে স্প্রে করতে হবে।

 জেনে নিন >>বায়োফ্লক প্রযুক্তিতে মাছ চাষ

রোগ ব্যবস্থাপনা :রোগের নাম :পাতা ঝলসানো রোগ
ক্ষতির নমুনা : অলটারনেরিয়াহেলিয়ানথী নামক ছত্রাকের সাহায্যে এ রোগ ছড়ায়। আক্রমণের শুরুতে পাতায় ধুসর বা গাঢ় বাদামী বর্ণের অসম আকৃতির দাগ পড়ে। এ দাগগুলো একত্রে মিলিত হয়ে বড় দাগের সৃষ্টি করে এবং অবশেষে পুরো পাতা ঝলসে যায়।
বিস্তার : বীজ এবং বায়ুর সাহায্যে বিস্তার লাভ করে।
ব্যবস্থাপনা : কিরণী জাতের চাষ করা
প্রতি লিটার পানির সাথে ২ গ্রাম রোভানন/রোভরাল-৫০ ডব্লিউ পি মিশিয়ে ১০ দিন পর পর ৩ বার স্প্রে করা বা ফসল কাটার পর পরিত্যক্ত কান্ড, মূল ও পাতা পুড়িয়ে ফেলা।

ফসল তোলা : ৯০-১১০ দিনের মধ্যে ফসল তোলা যায়।

জেনে নিন>>উচ্চ ফলনশীল বিনা সরিষা-১০ চাষ পদ্ধতি

জেনে নিন:>>টরি-৭ সরিষা চাষ

জেনে>>সরিষার বিভিন্ন জাত থেকে বেছে নিন আপনার পছন্দের জাত

জেনে>> পেরিলা চাষ পদ্ধতি

জেনে নিন>>বারি সরিষা-১১ সরিষা চাষ পদ্ধতি

জেনে নিন>>বারি সরিষা-১৪ চাষ পদ্ধতি

জেনে নিন>> কল্যাণীয়া (টিএস-৭২)সরিষা চাষ পদ্ধতি

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

53 thoughts on “সূর্যমুখী চাষ করে অধিক লাভবান হউন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সূর্যমুখী চাষ করে অধিক লাভবান হউন

আপডেট সময় : ০৩:৩৫:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০

সূর্যমুখী মূলত তেল জাতীয় ফসল।অন্যান্য তেল জাতীয় ফসল চাষ অপেক্ষা সূর্যমুখী চাষ অধিক লাভজনক।বাংলাদেশের কৃষকরা ১৯৭৫ থেকে সূর্যমুখীর চাষ করে আসছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সূর্যমুখীর চাষ হয়ে থাকে। সারা পৃথিবীতেই  সূর্যমুখীর তেল প্রচুর ব্যবহার করা হয়।

পুষ্টিমূল্য/উপাদান :সূর্যমুখীর বীজে ৪০-৪৫ ভাগ উপকারী লিনোলিক এসিড থাকে এবং ক্ষতিকর কোনো ইরোসিক এসিড থাকেন না। এটি একটি উন্নতমানের তেল।
ভেষজগুণ : হৃদরোগীদের জন্য সূর্যমুখীর তেল খুবই উপকারী।
ব্যবহার :সূর্যমুখীর খৈল গরু ও মহিষের উৎকৃষ্টমানের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর বীজ ছাড়ানোর পর মাথা গুলো গরুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায়। গাছ ও পুষ্পস্তবক জ্বালানী হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
উপযুক্ত সময়ঃ সূর্যমুখীর চাষ সারা বছর করা গেলেও অগ্রহায়ণ মাসে (মধ্য নভেম্বর থেকে মধ্য ডিসেম্বর) চাষ করলে ভালো ফলন পাওয়া যায়। খরিপ-১ মৌসুমে অর্থাৎ জ্যৈষ্ঠ মাসেও (মধ্য এপ্রিল থেকে মধ্য মে মাসে) সূর্যমুখীর চাষ করা যায়।

জেনে নিন >> লাভ জনক পদ্ধতিতে বাধা কফি চাষ

উপযুক্ত জমি ও মাটি : সূর্যমুখী সাধারণত সব মাটিতেই জন্মে। তবে দো-আঁশ মাটি সবচেয়ে বেশী উপযোগী।
জমি তৈরিঃ সূর্যমুখী চাষের জমি গভীর ভাবে চাষ দিতে হবে। ৪-৫ বার আড়াআড়ি ভাবে চাষ ও মই দিয়ে মাটি ভালোভাবে ঝুরঝুরে করে নিতে হবে।লবণাক্ত জমিতেও সূর্যমুখীর ভালো ফলন পাওয়া যায়।

সূর্যমুখী চাষের জন্য জাত নির্বাচনঃ এ পর্যন্ত বারি কর্তৃক ২টি জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। যথা (১) কিরণী (ডিএস-১) এবং বারি সুর্যমুখী-২।সূর্যমুখীর কিরণী (ডিএস-2)

১.কিরণী:১৯৯২ সালে জাতটির অনুমোদন দেয়া হয়। বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জাতটি উদ্ভাবন করা হয়। জাতটির কান্ডের ব্যাস ১.৫-২.০ সে.মি.। পরিপক্ক পুষ্প মঞ্জুরী বা শাখার ব্যাস ১২-১৫ সে.মি.। প্রতি মাথায় বীজের সংখ্যা ৪০০-৬০০। বীজের রং কালো। ১০০০ বীজের ওজন ৬৮-৭২ গ্রাম। বীজে তেলের পরিমাণ শতকরা ৪২-৪৪ ভাগ। জাতটি মোটামুটি অলটারনারিয়া ব্রাইট রোগ সহনশীল। জীবনকাল ৯০-১১০ দিন। শতক প্রতি ফলন ৬.৫ হতে ৭.৫ কেজি।
২.বারি সূর্যমুখী-২ : গাছের কান্ডের ব্যাস ২.০-২.৪ সে.মি.। পরিপক্ক পুষ্পমঞ্জুরী বা শাখার ব্যাস ১৫-১৮ সে.মি.। বীজের রং কালো। ১০০০ বীজের ওজন ৬৫-৭০ গ্রাম। প্রতি মাথায় বীজের সংখ্যা ৪৫০-৬৫০। তেলের পরিমাণ শতকরা ৪২-৪৪ ভাগ। জীবনকাল রবি মৌসুমে ৯৫-১০০ দিন এবং খরিফ মৌসুমে ৯০-৯৫। দিন।  হেক্টর প্রতি ফলন রবি মৌসুমে ৮ হতে ১০ কেজি এবং খরিপ মৌসুমে ৬.৫ হতে ৭.৫ কেজি।
সূর্যমুখীর বীজ বপন পদ্ধতিঃ সূর্যমুখীর বীজ সারি করে লাগাতে হয়। এক সারি থেকে অন্য সারির দূরত্ব ৫০ সে. মি. করে রাখতে হবে এবং এক গাছ থেকে অন্য গাছের দূরত্ব ২৫ সে. মি. করে রাখতে হবে। এভাবে বীজ বপন করলে শতক প্রতি ৩৫০-৪০০ গ্রাম বীজ লাগবে।
সার প্রয়োগঃ শতক প্রতি ইউরিয়া ৩৬৫ গ্রাম, টিএসপি ৭০০ গ্রাম, এমপি ৩৬৫ গ্রাম ,জিপসাম ৫০০ গ্রাম ১৫০ কেজি, জিংক সালফেট, ৪০ গ্রাম, বরিক এসিড ৪৫ গ্রাম,, এবং ৩৫ গ্রাম ম্যাগনেসিয়াম সালফেট জমি চাষ দেয়ার সময় ছিটিয়ে মাটির সাথে ভালোভাবে মিশিয়ে দিতে হবে।চারা গজানোর ২০-২৫ দিন পর ১৮০ গ্রাম, ইউরিয়া সার প্রয়োগ করতে হবে এবং ৪০-৪৫ দিন পর ফুল ফোঁটার আগে আরও ১৮৫ গ্রাম, ইউরিয়া সার প্রয়োগ করতে হবে।

সেচ ও আগাছা ব্যবস্থাপনা :সূর্যমুখী ফসলের ফলন বেশী পেতে হলে কয়েকবার সেচ দেয়া প্রয়োজন। প্রথম সেচ বীজ বপনের ৩০ দিন পর (গাছে ফুল আসার আগে), দ্বিতীয় সেচ বীজ বপনের ৫০ দিন পর (পুষ্পস্তবক তৈরির সময়) এবং তৃতীয় সেচ বীজ বপনের ৭০ দিন পর (বীজ পুষ্ট হবার আগে) সেচ দেয়া দরকার।সূর্যমুখীর জমি সর্বদা আগাছামুক্ত রাখতে হবে। জমিতে আগাছা দেখা দিলে উহা তুলে ফেলতে হবে।
পোকামাকড় ব্যবস্থাপনা :
পোকার নাম : বিছা পোকা:

ভূমিকা : ছোট অবস্থায় এরা দলবদ্ধভাবে থাকে।
পোকা চেনার উপায় : কীড়া বা বিছা হলুদ রংয়ের এবং গায়ে কাঁটা থাকে।
ক্ষতির নমুনা : এরা সাধারণত গাছের পাতায় আক্রমণ করে। এ পোকার কীড়া দলবদ্ধভাবে থেকে পাতার সবুজ অংশ খেয়ে পাতাকে পাতলা সাদা পর্দার মতো করে ফেলে।
অনুকূল পরিবেশ :উষ্ণ আবহাওয়া।
ব্যবস্থাপনা : বিছা পোকা দেখার সংগে সংগে গাছ থেকে পোকাসহ পাতা সংগ্রহ করে পোকা মেরে ফেলতে হবে। সেচ নালায় কেরোসিন মিশ্রিত পানি থাকলে কীড়া পানিতে পড়ে মারা যায়।ক্লোরোপাইরিফস,সাইপারমেথ্রিন,ল্যামড়া সাইহ্যালোথিন গ্রুপের কীটনাশক নির্দেশিত মাত্রায় বিকালে জমিতে স্প্রে করতে হবে।

 জেনে নিন >>বায়োফ্লক প্রযুক্তিতে মাছ চাষ

রোগ ব্যবস্থাপনা :রোগের নাম :পাতা ঝলসানো রোগ
ক্ষতির নমুনা : অলটারনেরিয়াহেলিয়ানথী নামক ছত্রাকের সাহায্যে এ রোগ ছড়ায়। আক্রমণের শুরুতে পাতায় ধুসর বা গাঢ় বাদামী বর্ণের অসম আকৃতির দাগ পড়ে। এ দাগগুলো একত্রে মিলিত হয়ে বড় দাগের সৃষ্টি করে এবং অবশেষে পুরো পাতা ঝলসে যায়।
বিস্তার : বীজ এবং বায়ুর সাহায্যে বিস্তার লাভ করে।
ব্যবস্থাপনা : কিরণী জাতের চাষ করা
প্রতি লিটার পানির সাথে ২ গ্রাম রোভানন/রোভরাল-৫০ ডব্লিউ পি মিশিয়ে ১০ দিন পর পর ৩ বার স্প্রে করা বা ফসল কাটার পর পরিত্যক্ত কান্ড, মূল ও পাতা পুড়িয়ে ফেলা।

ফসল তোলা : ৯০-১১০ দিনের মধ্যে ফসল তোলা যায়।

জেনে নিন>>উচ্চ ফলনশীল বিনা সরিষা-১০ চাষ পদ্ধতি

জেনে নিন:>>টরি-৭ সরিষা চাষ

জেনে>>সরিষার বিভিন্ন জাত থেকে বেছে নিন আপনার পছন্দের জাত

জেনে>> পেরিলা চাষ পদ্ধতি

জেনে নিন>>বারি সরিষা-১১ সরিষা চাষ পদ্ধতি

জেনে নিন>>বারি সরিষা-১৪ চাষ পদ্ধতি

জেনে নিন>> কল্যাণীয়া (টিএস-৭২)সরিষা চাষ পদ্ধতি

Facebook Comments Box