ধানের ব্যাকটেরিয়াজনিত পাতা পোড়া রোগ (Bacterial Blight) ও প্রতিকার ধানের ব্যাকটেরিয়াজনিত পাতা পোড়া রোগ (Bacterial Blight) ও প্রতিকার – দৈনিক সৃষ্টি নিউজ
  1. admin@sristy.net : admin :
সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
দেশের ৯ ব্র্যান্ডের টুথপেস্টে মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক নাগেশ্বরীতে প্রান্তিক কৃষকের মাঝে ভ্রাম্যমান সৌরসেচ ব্যবস্থা বিতরণ কাউনিয়ায় মসজিদ থেকে একের পর এক মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেল চুরি দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া টুথপেস্টের ৮টি ছাড়া সবগুলোতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক ভাইরাল রিল ভিডিও: প্রধান শিক্ষিকা বিউটি পালের পাশে সহকর্মীরা, ‘শিক্ষকরাও মানুষ’ যাদুকাটায় প্রশাসনের অভিযানে বালু খেকোদের হামলা শুভ সকাল; আজ রবিবার ২৬ জুলাই ২০২৬: আজকের পূর্ণাঙ্গ পঞ্জিকা ভূরুঙ্গামারীতে নসিমনের চাপায় চালক নিহত ভারতের ছাত্র আন্দোলন প্রত্যাহার: ক্ষতিপূরণসহ দাবি মেনে নিল সরকার তাড়াশে বহুল আলোচিত মারুফ হাসানের হত্যাকারীর মৃত্যু

ধানের ব্যাকটেরিয়াজনিত পাতা পোড়া রোগ (Bacterial Blight) ও প্রতিকার

সৃষ্টি ডেস্ক :
  • প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০২২
ব্যাকটেরিয়াজনিত পাতা পোড়া রোগ (Bacterial Blight) ও প্রতিকার

ধানের ব্যাকটেরিয়াজনিত পাতা পোড়া রোগ (Bacterial Blight) ও প্রতিকার

ব্যাকটেরিয়াজনিত পাতা পোড়া রোগ (Bacterial Blight)
রোগের জীবাণু- Xanthomonas oryzae pv. oryzae:  এটি ঝলসানো রোগ নামেও পরিচিত। পাতাপোড়া রোগের ব্যাকটেরিয়া জীবাণু আক্রান- গাছ বা তার পরিত্যক্ত গোড়া, কুটা ও বীজ এবং আগাছার মধ্যেও থাকতে পারে। শিশির, সেচের পানি, বৃষ্টি, বন্যা এবং ঝড়ো হাওয়ার মাধ্যমে এ রোগ ছড়ায়। ব্যাকটেরিয়া কোষগুলো একত্রে মিলিত হয়ে ভোরের দিকে হলদে পুঁতির দানার মত গুটিকা সৃষ্টি করে এবং এগুলো শুকিয়ে শক্ত হয়ে পাতার গায়ে লেগে থাকে। পরবর্তীকালে পাতার গায়ে লেগে থাকা জলকণা গুটিকাগুলোকে গলিয়ে ফেলে এ রোগের জীবাণু অনায়াসে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।

এ রোগের ফলে গাছের বিভিন্ন বয়সে তিনটি ভিন্ন ভিন্ন লক্ষণ (ক্রিসেক, পাতা পোড়া ও ফ্যাকাশে হলুদ) দেখা দেয়। বীজতলা থেকে চারা তোলার সময় যদি শিকড় ছিড়ে যায় তখন রোপণের সময় ব্যাকটেরিয়া সে ক্ষতের মধ্য দিয়ে গাছের ভিতরে প্রবেশ করে।

এছাড়া কচি পাতার ক্ষত স্থান দিয়েও প্রবেশ করতে পারে।আক্রান্ত গাছের নিচের পাতা প্রথমে নুয়ে পড়ে এবং শুকিয়ে মারা যায়। এভাবে গোছার সকল পাতাই মরে যেতে পারে।

এ অবস্থাকে ক্রিসেক বা নেতিয়ে পড়া রোগ বলা হয়। চারা বা প্রাথমিক কুশি বের হওয়ার সময় গাছের পাতা বা পুরো গাছটি ঢলে পড়ে। মাঝে মাঝে আক্রমণ প্রবণ জাতের ধানে পাতাগুলো ফ্যাকাশে হলদে রঙের হয়। গাছের বয়স্ক পাতাগুলো স্বাভাবিক সবুজ থাকে, কিন্ত কচি পাতাগুলো সমানভাবে ফ্যাকাশে হলদে হয়ে আস্তে আস্তে শুকিয়ে মারা যায়। পাতা পোড়া রোগের লক্ষণের ক্ষেত্রে প্রথমে পাতার কিনারা অথবা মাঝে নীলাভ সবুজ রঙের জলছাপের মত রেখা দেখা যায়।

 

জেনে নিন>> ধানের মাজরা পোকা দমন ও পরিচিতি

দাগগুলো পাতার এক প্রান্ত, উভয় প্রান্ত বা ক্ষত পাতার যে কোন জায়গা থেকে শুরু হয়ে আস্তে আস্তে সমস্ত পাতাটি ঝলসে বা পুড়ে খড়ের মত হয়ে শুকিয়ে যায়। আক্রমণ প্রবণ জাতের ধানে দাগগুলো পাতার খোলের নিচ পর্যন্ত যেতে পারে। এক সময়ে সম্পূর্ণ পাতাটি ঝলসে যায় বা পুড়ে খড়ের মত হয়ে শুকিয়ে যায়। রোগ সমস্ত জমিতে ছড়িয়ে পড়লে পুড়ে গেছে বলে মনে হয়।

জেনে নিন>> একটি উৎকৃষ্ট সবজি চিচিংগা চাষ পদ্ধতি

 

রোগের প্রতিকার:

    1. এ রোগ দমনের জন্য বিআর২ (মালা), বিআর৩ (বিপ্লব), বিআর৪ (ব্রিশাইল), বিআর১৪, বিআর১৬, বিআর১৯ (মঙ্গল), বিআর২১ (নিয়ামত), বিআর২৬ (শ্রাবণী), ব্রিধান২৭, ব্রিধান২৮, ব্রিধান২৯, ব্রিধান৩১, ব্রিধান৩২, ব্রিধান৩৭, ব্রিধান৩৮, ব্রিধান ৪০, ব্রিধান৪১, ব্রিধান ৪২, ব্রিধান৪৪, ব্রিধান ৪৫ ও ব্রিধান৪৬ ইত্যাদি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন জাতের ধান চাষ।
    2. ক্রিসেক আক্রান্ত গাছ তুলে ফেলে পার্শ্ববর্তী গাছ থেকে কুশি এনে লাগিয়ে দেয়া।
    3. আক্রান্ত ক্ষেতের পানি বের করে দিয়ে জমি ভেদে ৭-১০ দিন শুকানো।
    4. রোগাক্রান্ত জমির ধান কাটার পর নাড়া ও খড় পুড়িয়ে ফেলতে হবে।
    5. আক্রান্ত ক্ষেতে নাইট্রোজেন সার প্রয়োগ না করা।
    6. আক্রান্ত ক্ষেতে বিঘা প্রতি ৫ কেজি পটাশ সার প্রয়োগ করে মাটিতে ভালভাবে মিশিয়ে দিলে এ রোগের তীব্রতা কমে।রোগ প্রতিরোধী জাত চাষ করতে হবে।
    7. জমি তৈরির সময় চাষ করার পর ভালোমতো শুকাতে হবে যাতে মাটিতে বা খড় ও আগাছায় রোগের জীবাণু বেঁচে না থাকে।চারা উঠানোর সময় যেন শিকড় কম ছিঁড়ে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকা।
    8. সুষম মাত্রায় সার ব্যবহার ও ইউরিয়া সার ৩/৪ কিস্তিতে প্রয়োগ করতে হবে। কিন্তু রোগ দেখার পর ইউরিয়া সার উপরিপ্রয়োগ বন্ধ করতে হবে।
    9. জমি শুকিয়ে ৫-১০ দিন পর আবার পানি দিতে হবে।রোগ দেখার পর বিঘাপ্রতি অতিরিক্ত ৫ কেজি পটাশ সার ছিপছিপে পানিতে প্রয়োগ করতে হবে। প্রতি লিটার পানিতে ১ গ্রাম হারে চিলিটেড জিংক স্প্রে করলে রোগের তীব্রতা কমে যায়।

জানুন নিন>> পাট চাষ পদ্ধতি

জেনে নিন>> পেঁপের রিংস্পট বা মোজাইক রোগ ও প্রতিকার

জেনে নিন>> আলুর পাতা মোড়ানো রোগ Potato Leaf Roll Disease

Please Share This Post in Your Social Media

3 responses to “ধানের ব্যাকটেরিয়াজনিত পাতা পোড়া রোগ (Bacterial Blight) ও প্রতিকার”

  1. […] জেনে নিন>> ধানের ব্যাকটেরিয়াজনিত পাতা পোড়া রোগ (… […]

  2. […] লিচুতে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন বি, সি, খনিজ লবন ও ক্যালসিয়াম বিদ্যামান। আমাদের দেশে লিচুর কিছু রোগ বালাই দেখা যায়। লিচুর এ রোগসমূহ দমন করতে পারলে লিচুর উৎপাদন অনেকাংশে বৃদ্ধি কর সম্ভব। লিচুর মারাত্মক একটি রোগের কারণ ও এর প্রতিকার ব্যবস্থা আলোচনা করা হল ফল ঝরা রোগের কারণঃ ছত্রাক, খরা ও শারীরবৃত্তীয় কারণে এ রোগ হয়ে থাকে। জেনে নিন>> ধানের ব্যাকটেরিয়াজনিত পাতা পোড়া রোগ (…  […]

  3. […] রোগ (Sheath blight) ও প্রতিকার জেনে নিন>> ধানের ব্যাকটেরিয়াজনিত পাতা পোড়া রোগ (… জেনে নিন>>ধানের মাজরা পোকা দমন ও […]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর